Image description

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী মহাসড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝখানে এক তরুণীকে অচেতন অবস্থায় বহনের একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রহস্যময় এই ঘটনার কিনারা করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

 

ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণীর খালি পা নিচের দিকে ঝুলছিল এবং পেছনের যুবক তাকে শক্ত করে ধরে রাখেন।

 

বৃহস্পতিবার ভোরে মাদরাসাতুল মাদিনা, বগুড়ার পরিচালক মুফতি মনোয়ার হোসেন প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি জানান, উমরাহ শেষে বগুড়া ফেরার পথে ঢাকা থেকে টঙ্গীগামী মহাসড়কে এই দৃশ্য দেখে তিনি বেশ কিছু ছবি তোলেন।

 

তার ভাষ্যমতে, রাত ৩টার দিকে উত্তরার আবদুল্লাহপুর পার হয়ে মোটরসাইকেলটিকে নজরদারিতে রাখা হয়। মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছেন। তরুণীটির পা দুটি খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলছিল। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল তিনি হয় অচেতন, না হয় মৃত। বিষয়টি জানাতে ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সংযোগ না পাওয়ায় তিনি ফেসবুকে ছবিগুলো শেয়ার করেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাটি দেখেছেন বলে ওই পোস্টে মন্তব্য করেন।

 

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটির তথ্য পাওয়ার পরপরই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু হয়েছে। মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট যাচাই করে বাইক আরোহীদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

 

রেজিস্ট্রেশন ও মোবাইল নম্বর নিয়ে রহস্য

ভিডিওতে দেখা যাওয়া মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া ঠিকানা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর নিয়ে নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে। কারণ আলোচিত সেই মোটরসাইকেলটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ৫১-৫৩২৪। এই রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া দুটি মোবাইল নম্বরই ভুয়া বলে ধারণা করছে পুলিশ।

 

আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। পাশাপাশি দুটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। এর একটির শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটি এক শোরুম মালিকের।

 

তবে তিনি দাবি করেছেন, ওই মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার নম্বর সেখানে গেল, তা তিনি জানেন না। অন্য একটি নম্বর দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া গেছে।

 

এদিকে ফেসবুক পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে কমেন্টে দাবি করা হয়, মেয়েটি উত্তরার একটি বারে মদপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে তিনি দেখেছেন।

 

ওই আইডি থেকে আরও বলা হয়, ‘এই মেয়েটা উত্তরায় একটি বারে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। পরে তাকে হুইলচেয়ারে করে নিচে নামানো হয়। আমি ওই বারে ছিলাম। তাই বিষয়টি জানি।’

 

তার এই দাবির বিষয়ে কয়েকজন সন্দেহ প্রকাশ করলে রিপ্লাই দিয়ে বলা হয়, ‘এটা আজকের ঘটনা। আমি ড্রেস দেখে মেয়েটিকে চিনেছি। আমি শিওর হওয়ার পর আমার বন্ধুদের দেখালাম। ওরাও শিওর হলো যে ওই মেয়েটাই।’

 

তবে ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের ওই ফেসবুক আইডির দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।