Image description

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও কর্মীরা। ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকেন ৮০০ থেকে ১ হাজার রোগী। বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন প্রায় চার থেকে সাড়ে চার হাজার রোগী। তাদের সেবা দিতে কাজ করছেন মাত্র ৭০ চিকিৎসক। এর সঙ্গে রয়েছে জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগে সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রোগী দেখা হয়। সকাল ৮টার আগেই টিকিট কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে যান কয়েক হাজার মানুষ। পরে চিকিৎসকের কক্ষের সামনেও তৈরি হয় দীর্ঘ সারি। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় গুরুতর অসুস্থ রোগী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বহির্বিভাগে সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রোগী দেখা হয়। সকাল ৮টার আগেই টিকিট কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে যান কয়েক হাজার মানুষ। পরে চিকিৎসকের কক্ষের সামনেও তৈরি হয় দীর্ঘ সারি। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় গুরুতর অসুস্থ রোগী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের।

হাসপাতালে চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অচল। ফলে বাইরে থেকে করাতে হচ্ছে অধিকাংশ পরীক্ষা। হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তুলনায় যন্ত্রপাতিও কম। একটি সিটি স্ক্যান মেশিন রয়েছে, সেটিও প্রায় তিন মাস ধরে নষ্ট। তিনটি এমআরআই মেশিনের প্রয়োজন থাকলেও রয়েছে একটি। আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিনের প্রয়োজন অন্তত ১০টি, আছে ৩টি।

নাজমা আক্তার নামের এক রোগী জানিয়েছেন, চিকিৎসক তাকে সিটি স্ক্যান, এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষা করতে দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন নষ্ট থাকায় বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

 

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের বাইরে পরীক্ষা করানোর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় রয়েছে একটি দালাল চক্র। হাসপাতালের ভেতরে ও ফটকের আশপাশে থাকা এসব দালাল কম খরচে এবং দ্রুত পরীক্ষা করানোর কথা বলে রোগীদের নিয়ে যান বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। বিশেষ করে, অন্তঃসত্ত্বা ও সার্জারি প্রয়োজন এমন রোগীদের করা হয় টার্গেট।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বললেন, হাসপাতালের ৫০০ গজের মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের অনুমতি নেই। অথচ হাসপাতালের সামনে রয়েছে ১১টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক। দালালদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। সম্প্রতি দুই দালালকে এক মাস করে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৮৭ চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৪ জন। ৯২ নার্সের বিপরীতে রয়েছেন ৭৭ জন। এ ছাড়া ১০৫ জন আউটসোর্সিং কর্মী রয়েছেন। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় ওষুধ ও খাবার সরবরাহেও চাপ তৈরি হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ ৫০০ রোগীর হিসাব অনুযায়ী হওয়ায় অতিরিক্ত রোগীদের সবাইকে খাবার দেওয়া সম্ভব হয় না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, শয্যা না পেয়ে বারান্দা, সিঁড়ির পাশ ও খোলা জায়গায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চাদর, বালিশ, মশারি ও কম্বলও পাওয়া যায় না।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বললেন, বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এত রোগীর সেবা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে কোনো রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় না। জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন তারা।