Image description

উৎসবের মৌসুমের শুরুর মুখেই ভারতে হঠাৎ অস্থির হয়ে উঠেছে চিনির বাজার। ইথানল উৎপাদনসংক্রান্ত নীতির কারণে খুচরা বাজারে চিনির দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেও।

 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজার ঠিক আগে বাজারদর বাড়ার পাশাপাশি কেনাকাটার ওপর কেনাবেচার কড়াকড়ি নেমে আসায় চরম বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।

 

পরিস্থিতি সামলাতে খুচরা দোকান থেকে শুরু করে অনলাইন কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে চিনি বিক্রিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ (রেশনিং) করে দেওয়া হয়েছে।

 

গত কয়েক দিন ধরে ‘জেপ্টো’, ‘ব্লিনকিট’ কিংবা ‘সুইগি ইনস্টামার্ট’-এর মতো জনপ্রিয় কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে গ্রাহকদের ইচ্ছেমতো চিনি কিনতে দেওয়া হচ্ছে না। যেমন সুইগি ইনস্টামার্টে একজন ক্রেতা দিনে সর্বোচ্চ ২ কেজির বেশি চিনি অর্ডার করতে পারছেন না।

 

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে ‘ডি-মার্ট’ বা ‘রিলায়েন্স’-এর মতো বড় বড় সুপারমার্কেটগুলোতেও; সেখানে পরিবার পিছু ২ থেকে ৩ কেজির সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, উৎসবের এই সময়ে যাতে কোনো অসাধু চক্র অতিরিক্ত চিনি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে এবং মূল্যবৃদ্ধি অনিয়ন্ত্রিত না হয়ে পড়ে, সেজন্যই সরবরাহকারীরা বিক্রিতে এই সাময়িক সীমা নির্ধারণ করেছেন।

 

চিনির এই বৈষম্য ও বাজার অস্থিতিশীলতা রোধে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শুল্কমুক্ত অপরিশোধিত চিনি আমদানির নিয়মে বড় শিথিলতা আনা হয়েছে এবং ১০ লাখ টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত সেই চিনি প্রক্রিয়াজাত ও শোধন করে বাজারে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে। অন্তর্বর্তীকালীন এই সময়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে ঘাটতি এড়াতে ই-কমার্স ও সুপারশপগুলো কেনাকাটায় পরিমাণ নির্ধারণের এই পদক্ষেপ বজায় রেখেছে।

 

উৎসবের আগে কেনাকাটায় এই কড়াকড়ি মধ্যবিত্তদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ালেও সরকারের আমদানি নীতি দ্রুত বাজারে স্বস্তি ফেরাতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।