কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদ এবং জামায়াতের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের আট দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসার কিছু ছবি ও পোস্ট প্রকাশ পায়। তবে এ সমঝোতা কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে বিতর্ক।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম উল হাসান অপু, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ এবং জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদসহ একাধিক নেতাকে একফ্রেমে দেখা যায়। এর মধ্যে জামায়াতের করা মামলায় আদালত থেকে অগ্রিম জামিন পেয়েছেন আব্দুল খালেক ও তৌকির আহমেদসহ অন্য নেতারা। এর আগে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে করা মামলায় জামায়াতেরও কয়েকজন জামিন পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে করা মামলার আসামি জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান পলাশ দাবি করেন, এটি কোনো সাংগঠনিক সমঝোতা ছিল না। তিনি বলেন, মীমাংসার সময় দলীয় কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তবে আমরাও চাই বিষয়টির মীমাংসা হোক।
মুস্তাফিজুর রহমান পলাশ আরও বলেন, এমপি আমির হামজার পক্ষ থেকে মামলা করার কথা বলা হলেও তার ব্যক্তিগত সহকারী মামলা করতে পারতেন। কিন্তু মামলাটি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে করা হয়েছে।
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক বলেন, ওই বৈঠকটি মীমাংসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং কেবল প্রাথমিক আলোচনা ছিল। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এদিকে ২৪ আগস্ট মীমাংসার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর দিন মঙ্গলবার গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের মালিকানাধীন একটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে কিলন ও চিমনি ভেঙে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। এটিকে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি অভিযানের অংশ বলা হলেও গণঅধিকার নেতাকর্মীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা জানান, জেলার অনেক অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, এটিই কেন ভাঙা হলো? এমপির নির্দেশনা ছাড়া এটি ভাঙার কথা নয়।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার ছয়রাস্তা মোড়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় এমপি আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর এবং তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
ওই সংঘর্ষের ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা করা হয়। গণঅধিকার পরিষদের পক্ষে সাংগঠনিক সম্পাদক রুমন হোসেন ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে আসামি করে পাল্টা মামলা করেন।