Image description

দুই বছর বন্ধের পর ভারত ভ্রমণ ভিসা চালু করায় দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে বেড়েছে যাত্রী পারাপার। ভ্রমণ, চিকিৎসা ও ব্যবসাসহ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে দুই দেশের যাত্রী পারাপার বাড়ায় বেড়েছে বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয়। একইসঙ্গে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ফেরায় আয়রোজগার বেড়েছে শ্রমিক ও স্থানীয় দোকানিদের।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভ্রমণ, চিকিৎসা ও ব্যবসা সংশ্লিষ্ট ভিসায় হিলি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ জন যাত্রী দুদেশের মাঝে যাতায়াত করতেন। বর্তমানে ভ্রমণ ভিসা চালু হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ জনে। ফলে যাত্রী পারাপারে ট্রাভেল ট্যাক্স বাবদ রাজস্ব আয় বাড়ছে। ধীরে ধীরে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার ভারতে যাওয়া সুস্মিতা বসাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘ভারতে আমার বোন আছে, কাকা আছে, আত্মীয়-স্বজন আছে। বেশ কিছুদিন ধরে ভ্রমণ ভিসা বন্ধ ছিল। যার কারণে যেতে পারছিলাম না। দেখা করতেও পারছিলাম না। এখন ভিসা দেওয়া শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিন পর ভারতে যেতে পারছি। মনের মধ্যে একটা অন্যরকম আনন্দ লাগছে। আমি চাই দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণ ভিসা সবসময় চালু থাকুক।’

ভারতে যাওয়া আরেক যাত্রী পূর্ণিমা রানী বলেন, ‘আগে ভ্রমণ ভিসা একেবারেই দিচ্ছিল না ভারত সরকার। সীমিত পরিসরে মেডিক্যাল ভিসা দিচ্ছিল। ফলে ইচ্ছে থাকলেও সবাই যেতে পারতো না। এখন ভ্রমণ ভিসা চালু করায় সবাই যেতে পারছি। চিকিৎসা করানো জন্য কিংবা স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে এবং ঘুরতে যেতে পারছি। দীর্ঘদিন পর ভ্রমণ ভিসা চালু করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

ভারতে যাওয়া আরেক যাত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা যারা উত্তরবঙ্গের মানুষ, তাদের জন্য হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করা সুবিধাজনক। আমরা সহজেই যাওয়া-আসা করতে পারতেছি। এতদিন ট্যুরিস্ট ভিসা সীমিত পরিসরে চালু ছিল। এখন পুরোদমে চালু হওয়ায় আমাদের উপকার হয়েছে।’

ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকার শ্রমিক রিপন হোসেন বলেন, ‌‘দীর্ঘদিন পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় যাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে। সেইসঙ্গে আমরা যারা এখানে যাত্রীদের লাগেজ টানাসহ অন্যান্য কাজকর্ম করি তাদের আয়ও বেড়েছে। এজন্য আমরা খুশি।’

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ফলে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৩০ যাত্রী যাতায়াত করতেন বর্তমানে তা বেড়ে ১৫০-১৬০ জন হয়েছে। সামনে আরও বাড়বে।’