Image description

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা দরপতনের পর সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও কাটছে না লেনদেনে খরা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস আজ বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে মাত্র ৪৬৭ কোটি টাকা।

ডিএসই সূত্র জানিয়েছে, এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ১৫ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৬৫৫ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর সূচক ‘ডিএসইএস’ ৫ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৩২ পয়েন্টে এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক ৮ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১৩৪ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে ৪৬৭ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫০৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এদিন মোট ৩৯৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৫ টির, কমেছে ১৪৪ টির। আর দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৪টি প্রতিষ্ঠানের।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্দাবস্থার নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা। বাজারের বড় মূলধনি ও ভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক সাপোর্ট না থাকায় সূচকের সামান্য উত্থানও টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বড় তহবিলগুলো হাত গুটিয়ে থাকায় সাধারণ ও খুচরা বিনিয়োগকারীরাও নতুন করে পুঁজি খাটাতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে বাজারে ক্রেতার তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দৈনিক মোট লেনদেনের অংকে।

তারা বলছেন, লাগাতার লোকসান ও নীতিগত অস্পষ্টতার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা চরম রূপ নিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ সত্ত্বেও বাজার স্থিতিশীলতার কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাময়িকভাবে সূচক কিছুটা ইতিবাচক হলেও লেনদেনের এমন তলানি সূচক দীর্ঘমেয়াদে বাজারের ভঙ্গুর পরিস্থিতিকেই নির্দেশ করে। টেকসই বাজার নিশ্চিতে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক সক্রিয়তা ফেরানো এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।