Image description

গ্যাস রূপান্তরের দুটি ভাসমান টার্মিনালই সচল রয়েছে। তবে শিডিউল অনুযায়ী আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজ না আসায় বাড়ছে না গ্যাস সরবরাহ। মহেশখালীর টার্মিনাল দুটিতে মাসে অন্তত ১১ থেকে ১২টি এলএনজিবাহী জাহাজ না পৌঁছালে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা নেই। এখন সেখানে মাসে ৫ থেকে ৬টি জাহাজ আসছে। ফলে দুই টার্মিনালের ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার বিপরীতে গড়ে সাড়ে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে।

সরবরাহ না বাড়ায় দেশ জুড়ে গ্যাসসংকট শিগগিরই কাটছে না। শিল্প-কারখানা, আবাসিক গ্রাহক ও পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি কমার সুযোগ আপাতত নেই।

বুধবার বিকালে নতুন একটি এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আমরগস’ মহেশখালীর সামিটের টার্মিনালে ভিড়েছে। এরপর থেকেই সামিটের টার্মিনালে সরবরাহ ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বেড়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়। যদিও চুক্তি অনুযায়ী সামিটের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সামিট দিচ্ছে বাড়তি ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট।

সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে সরবরাহে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাশের মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেটের টার্মিনালে সরবরাহে ধস নেমেছে। বুধবার এই টার্মিনাল থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বৃহস্পতিবার তা কমে ১৬১ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। নতুন এলএনজিবাহী জাহাজ না আসা পর্যন্ত এক্সিলারেটের সরবরাহ এই পরিমাণই থাকবে। তবে কবে নাগাদ এই টার্মিনালের জন্য নতুন জাহাজ আসবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তারা।

তারা জানিয়েছেন, মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনালের ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পূর্ণ মাত্রায় সরবরাহ দিতে গেলে মাসে মোট ৩৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে এলএনজি গ্যাসের প্রয়োজন। প্রতি মাসে নিয়মিত ১১ থেকে ১২টি এলএনজি জাহাজ টার্মিনালের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু প্রয়োজনীয়সংখ্যক জাহাজ আসছে না। এমনকি আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকেও চড়া দামে পর্যাপ্ত এলএনজি পাওয়া যাচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহ জুড়ে দুটি টার্মিনাল থেকে গড়ে সাড়ে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়েছে। আজ সরবরাহ আরও কিছুটা কমে ৭৩১ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে।