Image description

প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি না করায় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা বন্ধ করতে ‘১৪৪ ধারা জারি হয়েছে’—এমন ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করার অভিযোগ উঠেছে নাটোরের লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত ৬০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। 

 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মো. মারুফ আলীকে রোববার শোকজ করেছে নাটোর জেলা ছাত্রদল।

 

নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মারুফ ইসলাম সৃজনের নির্দেশনায় সহদপ্তর সম্পাদক কে এফ কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে শোকজ করা হয়েছে।

 

শোকজ নোটিশে সোমবারের মধ্যে তাকে সশরীরে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার উপজেলার কেশবপুর গ্রামে।

 

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কেশবপুর গ্রামে প্রায় ৬ দশক ধরে নিয়মিত ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়ে আসছে। এই আয়োজনের সঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসী, শিক্ষার্থী, তরুণ ও ক্রীড়াপ্রেমীরা জড়িত। দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, খেলা শেষে গ্রামের প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এখানে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যক্তিদের অতিথি করার কোনো প্রচলন নেই। 

রাজনৈতিকআপডেট ও খবর পর্যালোচনা করা

 

 

আয়োজকদের অন্যতম সদস্য মাহবুব ইসলাম মিন্টু জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে শুরু হওয়া এবারের টুর্নামেন্টে স্থানীয় কলেজ, হাইস্কুল, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের ৬টি দল অংশ নেয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

 

তিনি বলেন, টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মারুফ আলী ফাইনাল খেলায় পৌরসভার সাবেক মেয়রকে প্রধান অতিথি এবং তাকে বিশেষ অতিথি করার দাবি জানান। তবে আয়োজকরা দীর্ঘদিনের স্থানীয় ঐতিহ্য বজায় রেখে ওই দাবিতে সাড়া দেননি।

 

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওইদিন বেলা ১১টার দিকে মারুফ আলী নিজ উদ্যোগে মাইক ভাড়া করে ঘোষণা দেন, খেলার মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এমন ঘোষণার পর ফাইনাল ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায় ।

 

গ্রামের আজিজুর রহমান বলেন, ‘ভিত্তিহীন এমন ঘোষণার কারণে দীর্ঘদিনের একটি সুন্দর আয়োজনের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এতে গ্রামের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইস বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ১৪৪ ধারা জারির মতো কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার ব্যক্তির নেই।

 

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুল ইসলাম শোকজ নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে সশরীরে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তার বক্তব্য ও সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে সাংগঠনিকভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

 

এ বিষয়ে লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মাইকিং করে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণার বিষয়টি পুলিশ সরাসরি দেখেনি।