Image description

এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা।

বুধবার (২৩ আগস্ট) সকাল ৯টায় রাজধানীর গেন্ডারিয়া সামাজিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সংবর্ধনা ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি কল্যাণমুখী, ন্যায়ভিত্তিক ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তুলব। তোমরা যারা এ+ পেয়েছো, তোমরা যারা মেধাবী, সাহসী ও স্বপ্নবান—তোমরাই আমাদের সঙ্গে থাকবে। তোমাদের মেধা, তারুণ্য ও উদ্যমকে কাজে লাগিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা হব বড় বিহানে পাখির কলরব, জাগিয়ে দেব ঘুমিয়ে থাকা মানুষগুলোকে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলব, মানুষের অধিকার ও মর্যাদার জন্য দাঁড়াব।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার সেই স্বপ্ন আমাদের দেখতে হবে। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আগামী দুই বছর তোমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলেজে যাওয়ার পর তোমরা এই সময়টাকে কোনোভাবেই নষ্ট করবে না। অপ্রয়োজনীয় বিষয়, অযথা আড্ডা কিংবা এমন কোনো কাজে নিজেকে জড়াবে না, যা তোমার ভবিষ্যৎকে পিছিয়ে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামনে তোমাদের জীবন আরও কঠিন ও প্রতিযোগিতাময় হবে। আজ তুমি যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, আগামী দিনে তোমার প্রতিযোগিতা শুধু তোমার সহপাঠীদের সঙ্গে নয়; বাংলাদেশের সব মেধাবী শিক্ষার্থীর সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে পড়তে চাইলে এখন থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের চেষ্টা ও সাফল্যের মূল্য শুধু পৃথিবীতেই নয়, আখিরাতেও রয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষের পরিশ্রম, সততা ও নেক আমলের যথাযথ প্রতিদান দেবেন। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, মেধা ও যোগ্যতাকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বলেন, জীবনের এক পর্যায়ে মানুষ সফল হলে সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় একদল সফল হয়ে অহংকারী হয়ে যায়, আরেকদল সফল হয়ে আরও বেশি বিনয়ী হয়ে যায়।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, তোমরা একদিন অনেক বড় হবে। তোমাদের জীবনে সাফল্য আসবে, তোমরা অনেক দূর এগিয়ে যাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তবে সাফল্য যেন কখনো তোমাদের অহংকারী না করে। যত বড় হবে, তত বেশি বিনয়ী হবে। বাবা-মা, শিক্ষক ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব ভুলে যাবে না।’

ছাত্রশিবিরের সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘জিপিএ-৫ পাওয়া, গোল্ডেন এ+ পাওয়া কিংবা ভালো ফলাফল করাই জীবনের পূর্ণ সফলতা নয়। প্রকৃত সফলতা তখনই, যখন একজন ভালো, নৈতিকতাসম্পন্ন ও মানবিক মানুষ হওয়া যায় এবং যার মাধ্যমে সমাজ ও দেশের কল্যাণ হয়।’

তিনি আরও বলেন, “সফল হতে চাইলে সবার আগে নিজের মন থেকে বিশ্বাস করতে হবে—আমি পারব, আমরা পারব। সামনে তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যুদ্ধ, এরপর বিশ্ববিদ্যালয়জীবন। এই দীর্ঘ পথচলায় আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে পরিশ্রম করলে ইনশাআল্লাহ তোমরা সফল হবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিনয়ের সঙ্গে চলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা, আত্মশুদ্ধি, কোরআন-হাদিসের শিক্ষা ও নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আবু সাদিক কায়েম বলেন, “তোমাদের সামনে যারা বসে আছো, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তোমরাই আগামী দিনের বিজয়ী প্রজন্ম। আমরা যে ইনসাফের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি শহীদ আবু সাঈদসহ যারা সেই স্বপ্নের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ তোমাদের হাত ধরেই ইনশাআল্লাহ গড়ে উঠবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ দেলাওয়ার হোসেন। শাখা সেক্রেটারি হাফেজ আনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসাইন, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. শামসুল আলম, ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সাবেক সভাপতি শাফিউল আলম এবং আলাউদ্দিন আবির প্রমুখ।