রংপুর নগরীতে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় আবেগাপ্লুত হয়ে সংবাদ সম্মেলনে কেঁদেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। নিহতদের মধ্যে ১২ বছরের শিশু থাকায় ঘটনাটি তাকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে বলে জানান তিনি। প্রাথমিক আলামতে ঘটনাটি ডাকাতির ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার এসব কথা বলেন। নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছোট ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।
ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মচুয়াপাড়া এলাকায় একটি পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন রংপুর ও জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণবর্তী চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, তার মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং ১২ বছর বয়সী শিশু প্রিয়ম।
তিনি বলেন, ১২ বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু প্রিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আমি ব্যক্তিগতভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছি। শিশুটির বয়স আমার নিজের সন্তানের কাছাকাছি বলে হবে। সেই শিশুকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।
এর আগে, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছোট ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে মোবাইল ফোনে পাওয়া যাচ্ছিলো না রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারকে। শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান শ্যালিকা। সেখানে গিয়ে দেখেন বাড়ি তালাবদ্ধ। জানালা দিয়ে দেখেন এলোমেলো ঘর। সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িটি ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। শনিবার রাতে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা আরও জানান, নিহত গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষকতা থেকে অবসর নেয়ার পর নিজ বাসায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন।
পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের দেয়া খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় দুইতলা বাড়ির ছাদে পাওয়া যায় গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ। তার স্ত্রী ও কন্যার মরদেহ ছিল বাসার সিঁড়িতে আর ছেলের মরদেহ ছিল ঘরের ভেতর খাটের নিচে।