Image description

গাইবান্ধার সাঘাটায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন নিহত হওয়ার পর গত ১০ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাঘাটায় এসে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সালাউদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তিনি তার বাবা আতাউর রহমানের সঙ্গে ঘরের ভেতরে একান্তে কথা বলেন। এরপর সেই কথোপকথন জানতে এনএসআই পরিচয়ে ফোন করে তথ্য চাওয়া এবং তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

 

এ ঘটনায় একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। কল রেকর্ডে নিহত সালাউদ্দিনের মামা আতাউর রহমানকে ফোন করে জামায়াতের সাঘাটা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও যুব জামায়াতের সভাপতি এনামুল হক সরকারকে বলতে শোনা যায়, ‘কবিরাজ সাহেব, এনএসআই ফোন দিয়ে আপনার নম্বর নিয়েছে।’

 

এরপর যুব জামায়াতের বোনারপাড়া ইউনিয়ন সেক্রেটারি শাহজাহান আলী ও যুব জামায়াতের কর্মী শিহাব এনএসআই পরিচয়ে আতাউর রহমানকে ফোন করেন। তাদের একজন নিজেকে ‘এনএসআই হাবিব’ পরিচয় দিয়ে জানতে চান, তিনি সালাউদ্দিনের মামা কি না এবং জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় কী কথা হয়েছে।

 

জবাবে আতাউর রহমান বলেন, তিনি ওই সময় বাইরে ছিলেন। ফলে সালাউদ্দিনের বাবা ও জামায়াত আমির ঘরের ভেতরে কী কথা বলেছেন, তা তার জানা নেই।

 

কথোপকথনের একপর্যায়ে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কেন জামায়াত আমিরের হাত ধরেছেন এবং আমিরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সালাম দেওয়ার অনুমতি কে দিয়েছে। একপর্যায়ে তাকে ‘তুলে নিয়ে আসা হবে’ বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন আতাউর রহমান।

 

পরে আবার আতাউর রহমানকে ফোন করেন এনামুল হক সরকার। তিনি জানতে চান, আতাউর রহমান নাকি এনএসআইয়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। জবাবে আতাউর রহমান বলেন, তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেই তিনি ওইভাবে কথা বলেছেন। এরপর এনামুল হক বলেন, ‘আপনাকে তুলে নিয়ে যাবে কেন, আমরা আছি।’

 

কল রেকর্ডের আরেক অংশে এনামুল হক আতাউর রহমানের কাছে জানতে চান, সালাউদ্দিনের বাবা ও জামায়াত আমিরের মধ্যে ঘরের ভেতরে কী কথা হয়েছে তিনি জানেন কি না। আতাউর রহমান জানান, তিনি বাইরে ছিলেন, তাই কী কথা হয়েছে তা তিনি জানেন না। পরে এনামুল হক সালাউদ্দিনের মা বিলকিছ বেগমের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে নিতে বলেন।

 

এ বিষয়ে সালাউদ্দিনের মামা আতাউর রহমান বলেন, ‘আমাকে এনএসআই পরিচয়ে ফোন করে বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে। আমি দিতে না চাইলে আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।’

 

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এনএসআই পরিচয়ে ফোন করা ব্যক্তিরা কারা এবং তারা কোনো সরকারি সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন নিহত সালাউদ্দিনের পরিবার।

 

নিহত সালাউদ্দিনের বড় ভাই সাদেকুর রহমান জানান, জামায়াতের উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক ভুয়া এনএসআই টিম সাজিয়ে আমার মামাকে ফোন দেয়। তারা জামায়াত আমিরের সঙ্গে আমার বাবার সাক্ষাৎ বিষয়ে যে গোপন তথ্য চেয়েছেন, এটি জামায়াতে ইসলামীর কোন নিয়মে আছে?

 

অভিযুক্ত যুব জামায়াতের বোনারপাড়া ইউনিয়ন সেক্রেটারি শাহজাহান আলী ও যুব জামায়াতের কর্মী শিহাব সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি মোটেও ঠিক করা হয়নি। আমরা বুঝতে পারিনি।’

 

জামায়াতে ইসলামীর সাঘাটা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও যুব জামায়াতের সভাপতি এনামুল হক সরকার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে জামায়াতের সাঘাটা উপজেলা শাখার একটি পেজে বিষয়টি ইয়ারকি বলে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। পোস্টে লেখা আছে—‘ইয়ার্কি তো ইয়ার্কি। কেউ হেসে নেয় কেউ সিরিয়াস নেয়। তবে ইয়ার্কির একটা সময় ও সীমা থাকে। তবে শিক্ষা নিতে হবে...’

 

সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির ইব্রাহীম আলী জানান, ‘বিষয়টি জানার পরে আমরা জেলা জামায়াতকে অবগত করেছি। পরে দলের মতামতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

 

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পবিত্র কুমার জানান, ভুয়া এনএসআই পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।