বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফলে সংবিধান অনুযায়ী সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সে আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এরমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, ‘নির্বাচনি খরচ বাঁচাতে ঠাকুরগাও ১ কোনো উপনির্বাচন হবে না ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে ২য় অবস্থানে থাকা জামায়াতের প্রার্থীই উক্ত আসনের এমপি হিসেবে গণ্য হবেন।’ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এমএম নাছির উদ্দিন এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এশিয়া পোস্ট যাচাই করে দাবিটির সত্যতা পায়নি।
দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হুমায়ুন হিমু নামে একটি আইডি থেকে দাবিটি সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয়। এরপর থেকে জামায়াত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেজ থেকে দাবিটি প্রচার করতে দেখা যায়। এরমধ্যে আলেম ওলামা ঐক্য পরিষদ নামে একটি পেজ থেকে এ সম্পর্কিত একাধিক পোস্ট করা হয়েছে, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্যাপকভাবে নেটিজেনদের দৃষ্টি আর্কষণ করতে দেখা গেছে। পেজটি থেকে করা এমন একটি পোস্ট মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ২ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ২ শতাধিক মন্তব্য পড়েছে। এ ছাড়াও পোস্টটি শতাধিকবার শেয়ার করতেও দেখা গেছে।
তবে প্রচারিত দাবিটির সঙ্গে সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো সংবাদমাধ্যমে ‘খরচ বাঁচাতে উপনির্বাচন না হওয়া’ প্রসঙ্গে কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। বরং একাধিক সংবাদমাধ্যমে ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে : ইসি’ শিরোনামে একাধিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন গুলোতে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদের বরাতে জানানো হয়েছে, ‘যেহেতু আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আমরা আইন-বিধি দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব। ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসন্ন থাকায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য বেশি সময় নেব না, দ্রুতই নির্বাচন আয়োজন করা হবে।’
অর্থাৎ, ‘নির্বাচনি খরচ বাঁচাতে ঠাকুরগাও ১ কোনো উপনির্বাচন হবে না ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে ২য় অবস্থানে থাকা জামায়াতের প্রার্থীই উক্ত আসনের এমপি হিসেবে গণ্য হবেন।’ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাছির উদ্দিনের নামে প্রচারিত মন্তব্যটি ভুয়া। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি নির্বাচন কমিশন।