সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হলো। যুক্ত হলেন চারজন মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রী। গতকাল শুক্রবার তারা শপথ গ্রহণ করার পর মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর এটি তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রিসভা।
অবশ্য এই ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভায় ৫৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারীর সংখ্যা এখন ১২ জন। অতীতে কোনো সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় এত উপদেষ্টা ছিলেন না।
সর্বোচ্চ ৬১ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভায়। আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারে মন্ত্রিত্বের স্বাদ পান ৬০ জন। সরকারপ্রধানের উপদেষ্টা ছিলেন চারজন।
জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে কয়েকবার বলেছিল ছোট আকারের কার্যকর সরকার গঠন করবে। এখন আর তা দেখা যাচ্ছে না। ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিত্বের স্বাদ দিয়েছে ৫৬ জনকে। সরকার যত ছোট হবে, কাজ তত ভালো। অতীতে যখনই বড় আকারের সরকার ছিল, বিশৃঙ্খলা তত বেশি ছিল।
চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী
নতুন শপথ নেওয়া চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব এরই মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দপ্তর বদল করা হয়েছে। গতকাল বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ গ্রহণের পর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করেন।
শপথ নেওয়া নতুন চার মন্ত্রী হলেন– আব্দুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাচিং প্রু জেরী ও আন্দালিব রহমান পার্থ। এর মধ্যে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী হলেন– হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন)। টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হওয়া হুমায়ুন কবির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি হওয়ায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর শূন্য পদে আব্দুল মঈন খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।
বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দায়িত্ব পান দীপেন দেওয়ান। কিন্তু তিন মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন।
নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা করা হয়েছে।
শামীম কায়সার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে আব্দুল মঈন খান এর আগে খালেদা জিয়া সরকারের সময়ে তথ্যমন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবার এমপি হয়েছিলেন।
সাচিং প্রু জেরী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। একই সঙ্গে বিএনপির বান্দরবান জেলা শাখার আহ্বায়কের দায়িত্বেও রয়েছেন। এর আগে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনেও তিনি এমপি হয়েছিলেন। বান্দরবান সদর উপজেলা ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন। তাঁর বাবা অং শৈ প্রু চৌধুরী ছিলেন ব্যোমাং সার্কেলের রাজা। তিনিও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তাঁর বাবা আবদুল মোত্তালিব আকন্দ একই আসনের এমপি ছিলেন। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতিও তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন তিনি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি হওয়ার পর তাঁকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হন।
৫২ জনের মন্ত্রিসভা
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা যাত্রা শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন ২৬ জন। প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ২৪ জন। প্রথম দিনেই মন্ত্রিসভার আকার ছিল ৫০ জনের। স্পিকার পদে নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম পরের মাসে মন্ত্রিত্ব ছাড়েন। আর প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়েন ডেপুটি স্পিকার হওয়া কায়সার কামাল। এ সময় নতুন করে মন্ত্রিত্ব পান আজম খান। জুনে পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রিত্ব ছাড়েন।
গতকাল যে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নিয়েছেন তাদের মধ্যে চারজন নতুন। পদোন্নতি পেয়েছেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আর উপদেষ্টা থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন হুমায়ুন কবির। ফলে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ৫২ জনে।
তারেক রহমানের সরকার শুরুতেই মন্ত্রী পদমর্যাদায় পাঁচজন উপদেষ্টা এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যদায় পাঁচজন উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়। পরে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় আরও তিনজন বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়। উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির গতকাল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ফলে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারীর সংখ্যা এখন ১২। জহির উদ্দিন স্বপন উপদেষ্টার দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে পেলে এই সংখ্যা হবে ১৩। তখন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা কমে হবে ৫১।
খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারে ৪৯ জনের মন্ত্রিত্ব
খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ১১ জন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ২২ জন। প্রধানমন্ত্রীসহ খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভা শুরুতে ছিল ৩৪ জনের।
একই বছরের সেপ্টেম্বর সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করেন খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১১ জন মন্ত্রী শপথ নেন। এতে মন্ত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ২২ জন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শপথ নেন আরও ছয়জন। এতে প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হওয়ার কথা ছিল ২৮। তবে প্রতিমন্ত্রী থেকে তরিকুল ইসলাম, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, জমির উদ্দিন সরকারসহ ৯ জন মন্ত্রী পদে পদোন্নতি পাওয়া সংখ্যাটি ১৯। ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর উপমন্ত্রী হিসেবে তিনজন শপথ নেন। এতে খালেদা জিয়াসহ মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা হয় ৪৫।
পরবর্তী বছরগুলোতে আরও দুইজন মন্ত্রী এবং চারজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হন খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়। সেই সরকারে ৫০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আবার কয়েকজন মাঝপথে পদত্যাগ করেন। ফলে মন্ত্রিসভার আকার ৫০ জনের কম ছিল। ১৯৯৬ সালের ১৯ মার্চ গঠিত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ১১ দিন মেয়াদের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ২৬ জন।
শেখ হাসিনার প্রথম সরকারে ৫১ জনের মন্ত্রিত্ব
১৯৯৬ সালে ২৩ জুন শুরুতে শেখ হাসিনাসহ মোট ২০ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ৯ জন প্রতিমন্ত্রীসহ ২৯ জন শপথ নেন। ছয় দিন পর আরও দুজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। এতে মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে হয় ৩৪ জন। পরবর্তী বছগুলোতে আরও তিনজন মন্ত্রী, সাতজন প্রতিমন্ত্রী এবং পাঁচজন উপমন্ত্রী শপথ নেন। এতে মন্ত্রিসভার আকার বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ জনে। বিএনপির এমপি আলাউদ্দিন আহম্মেদ এবং হাসিবুর রহমান স্বপন প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী হয়েছিলেন শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায়। দল ত্যাগ করায় এমপি পদ হারানো হাসিবুর রহমান উপনির্বাচনে পরাজিত হলে মন্ত্রিত্ব হারান। মন্ত্রী সালাহউদ্দিন ইউসুফ মন্ত্রী পদে থাকা অবস্থায় মারা যান। মাঝপথে পদত্যাগ করেছিলেন প্রতিমন্ত্রী আফসার উদ্দিন আহমেদ এবং আবুল হোসেন। সেই সরকারে পুরো মেয়াদে ৫১ জন মন্ত্রিসভায় ছিলেন। মন্ত্রী পদমর্যাদায় শেখ হাসিনার উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
ঢাউস মন্ত্রিসভার সমালোচনা
২০০১ সালের ১০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। খালেদা জিয়াসহ ২৮ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী এবং চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন এই মন্ত্রিসভায়। যা বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মন্ত্রিসভা ছিল। এ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছিল খালেদা জিয়ার তৃতীয় সরকার। সেই মন্ত্রিসভার অন্তত সাতজন পদত্যাগ করেন বিভিন্ন সময়ে। ২০০৬ সালের অক্টোবরে সরকারের শেষ সপ্তাহে চারজন প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করে যোগ দেন বিএনপি ছেড়ে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের গঠন করা এলডিপিতে।
ঢাকার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর দল ত্যাগ করেন মন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকা। পদত্যাগ করেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী এল কে সিদ্দিকীও। শেষদিকে এসে পদত্যাগ করেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তারা ২০০৪ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে পদত্যাগ করেন। চট্টগ্রামের মেয়র পদে নির্বাচন করে হেরে যাওয়ার পর অভ্যন্তরীণ বিরোধে ২০০৫ সালে পদত্যাগ করেছিলেন টেকনোক্র্যাট কোটার প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।
টেকনোক্র্যাট কোটার আরেক প্রতিমন্ত্রী বরকতউল্লা বুলুকে পদত্যাগ করতে হয় ২০০৩ সালে। তবে তিনি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা হিসেবে সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জাহানারা বেগম। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ছিলেন হারিছ চৌধুরী ও মাহমুদুর রহমান। খালেদা জিয়ার তৃতীয় সরকারে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং একই পদমর্যাদায় ৬৪ জন দায়িত্ব পালন করেন।
বৃহত্তম মন্ত্রিসভা শেখ হাসিনার
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি গঠিত হয় শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা। সেদিন প্রধানমন্ত্রীসহ ২৪ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং আটজন প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালের মন্ত্রিসভায় প্রথম দফায় আরও ছয়জন নতুন সদস্য যুক্ত হন। একই বছরের ৩১ জুলাই মন্ত্রিসভায় দুজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং চারজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। এতে মন্ত্রিসভার আকার হয় ৪৪।
২০১১ সালের ডিসেম্বরে ওবায়দুল কাদের ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মন্ত্রী হন। ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হাসানুল হক ইনুসহ পাঁচজন মন্ত্রী হন। প্রতিমন্ত্রী হন দুজন। এই দুজনের অন্তর্ভুক্তিতে মন্ত্রিসভার আকার হয় ৫৩। ২০১৩ সালের নভেম্বর তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, রাশেদ খান মেনন, রওশন এরশাদ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রহুল আমিন হাওলাদারসহ ছয়জন মন্ত্রী হন। প্রতিমন্ত্রী হন দুজন। এতে মন্ত্রিসভার আকার হয় ৬১। তবে একই দিনে ৩২ জন পদত্যাগ করেন।
তাদের দুজন মন্ত্রী পদমর্যাদায় দুই প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হন। নিয়োগ পান আরও দুই উপদেষ্টা। আগে থেকেই ছিলেন সাতজন। এই হিসাবে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সরকারে ৭০ জন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ছিলেন।
উপদেষ্টার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রচলন
৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার তৃতীয় মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৯ জনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পরের বছরে দুই প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হন। ২০১৬ সালে দুই মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে আরও তিনজন যুক্ত হন। সব মিলিয়ে ৫৪ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনার তৃতীয় সরকারে। মন্ত্রী মর্যাদায় উপদেষ্টা ছিলেন সাতজন।
‘রাতের ভোট’ হিসেবে খ্যাত ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর গঠিত শেখ হাসিনার চতুর্থ সরকার গঠিত হয় ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি। প্রধানমন্ত্রীসহ ২৬ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী, তিন উপমন্ত্রীসহ ৪৮ জনের মন্ত্রিসভা যাত্রা শুরু করে। মৃত্যু ও পদত্যাগের দুজন প্রতিমন্ত্রী কমে মাঝপথে। তবে যুক্ত হন তিনজন প্রতিমন্ত্রী। সব মিলিয়ে ৫১ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনার চতুর্থ সরকারে। এই সরকারেও মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ছিলেন সাতজন।
বিদায় বেলায় ৪৪ জনের মন্ত্রিসভা
‘ডামি নির্বাচন’খ্যাত নির্বাচনের পর ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি শপথ নেয় শেখ হাসিনার পঞ্চম মন্ত্রিসভা। সেদিন প্রধানমন্ত্রীসহ ২৬ জন মন্ত্রী এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। একই বছরের মার্চে আরও সাতজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হন। এতে মন্ত্রিসভার আকার হয় ৪৪। এই সরকারেও মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ছিলেন সাতজন।