Image description

গণভবন ছিল শেখ হাসিনার ক্ষমতার দুর্গ। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সেখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও ব্যক্তিগত শত্রুকে সেখান থেকে বিশেষ ‘অর্ডার’ দিয়ে সরিয়ে ফেলা হতো তার সাম্রাজ্য থেকে। শকুনের মতো তীক্ষ্ণ চোখে দেখা হতো প্রতিটি ‘টার্গেট’কে। ক্ষমতার সেই দুর্গ যখন জনগণ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, সেখানে পাওয়া গিয়েছিল পতিত এই খুনি হাসিনার অনেক অপকর্মের নথি। সেই নথিগুলোর মধ্যে এমন একটি দলিল আছে, যা শেখ হাসিনার শাসনের চরিত্র বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার পরিবারকে নিয়ে তৈরি করা ‘টার্গেট প্রোফাইল’। 

নথিতে সরাসরি লেখা ছিল, ‘সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী চট্টগ্রামের রাউজানের ১৩ মার্চ, ১৯৪৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ফজলুল কাদের চৌধুরী, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের একজন স্পিকার ছিলেন এবং কয়েক দফায় পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার তিন ভাই গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামালউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী। তার দুই ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও ফজলুল কাদের চৌধুরী এবং এক মেয়ে ফারজিন কাদের চৌধুরী।’ এরপর তার স্কুল, কলেজ, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, রাজনৈতিক পরিচয়, সংসদ সদস্য হিসেবে তার দীর্ঘ নির্বাচনি ইতিহাস এবং মামলার তথ্যও একই নথিতে লেখা হয়েছে। এই নথিতে আরো আছে তার প্রতিটি পদক্ষেপের গতি-প্রকৃতি।

এই নথির গুরুত্ব এখানেই যে, শুধু সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর জীবনী নয়। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির পরিচয় লিখতে গিয়ে তার বাবা কে, তিন ভাই কারা, স্ত্রী কে, তিন ছেলেমেয়ে কারা, কোথায় পড়েছেন, কোন নির্বাচনে জিতেছেন, কোন রাজনৈতিক অবস্থানে ছিলেন, কীভাবে, কোথায়, কখন, কী কাজ করেন, সবকিছু এক জায়গায় এমনভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যেন নিজ চোখে গণভবন থেকে এই পরিবারের পিছু পিছু হাঁটছিলেন শেখ হাসিনা। নথির শিরোনামই ছিল ‘টার্গেট প্রোফাইল’। অর্থাৎ শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চোখে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছিলেন একজন চিহ্নিত রাজনৈতিক টার্গেট। আর সেই টার্গেটের পরিধি তিনিসহ তার পুরো পরিবার।

এখানেই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভয়াবহতা বোঝা যায়। একজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করা আর তার পুরো পরিবারকে রাষ্ট্রীয় নজরদারির মধ্যে নিয়ে আসা এক জিনিস নয়। গণভবনে পাওয়া এই নথি দেখায়, কাদের চৌধুরী পরিবারের পরিচয়, বংশ, পারিবারিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক অবস্থান। এই রাষ্ট্রীয় নজরদারির পেছনে যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল, সেটি বোঝার জন্য পরবর্তী ঘটনাগুলোর দিকে তাকালেই যথেষ্ট।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তৈরি করা ‘আয়নাঘর ফাইলস’ নামক একটি ডকুমেন্টারিতে হুম্মাম কাদের চৌধুরী সরাসরি বলেছেন, ‘আমরা এই জিনিসটা খুব ভালোভাবেই বুঝে ফেলেছি যে, সিদ্ধান্ত তো গণভবন থেকেই আসত। ওনার (শেখ হাসিনার) আদেশেই আব্বার থেকে লুকানো হলো যে ওনাকে আজ রাতে (যেদিন তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়) মেরে ফেলা হবে। ওনার আদেশেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো আব্বাকে কোথায় দাফন করা হবে। আব্বার কিন্তু শেষ ইচ্ছাও পূরণ করা হয় নাই।’ এখানে ‘ওনার’ বলতে তিনি সীমাহীন লুটপাট, গুম, খুনের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকেই বোঝাচ্ছেন।

এই বক্তব্যকে গণভবনের ‘টার্গেট প্রোফাইল’-এর পাশে রাখলে এই প্রতিহিংসার ছবিটা আরো স্পষ্ট হয়। প্রথমে একজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চিহ্নিত করা, তার পরিবার ও পারিবারিক সম্পর্ক পর্যন্ত নথিবদ্ধ করা, তারপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পক্ষপাতমূলক বিচারপ্রক্রিয়া চালানো এবং শেষ পর্যন্ত তাকে মেরে ফেলা। এরপরও পরিবারের ওপর দমন-পীড়ন থামেনি। বরং হুম্মাম কাদের চৌধুরীর জীবনেই সেই দমন-পীড়নের আরেকটি অধ্যায় লেখা হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিচারকেও নিয়ন্ত্রণ করা হতো গণভবন থেকে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। তার সহপাঠী এবং তৎকালীন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক শামীম হাসনাইন ট্রাইব্যুনালে এসে তার পক্ষে সাক্ষ্য দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, রেজিস্ট্রার ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধানের সত্যায়িত শিক্ষাসনদও উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেসব গ্রহণ করা হয়নি।

তখন আপিল শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে ছিলেন নাজমুন আরা সুলতানা, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। শুনানিতে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান বৈরী রাষ্ট্র। তাদের কোনো কথা গ্রহণযোগ্য নয়।’ প্রশ্ন তখনো ছিল, পাকিস্তান রাষ্ট্রের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য না হলে তৎকালীন হাইকোর্টের একজন সিটিং বিচারক শামীম হাসনাইনের বক্তব্যও কি অগ্রহণযোগ্য? তাকে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো না কেন? তিনি তো বাংলাদেশি। এর উত্তর একটাই, যেভাবেই হোক গণভবনের ‘টার্গেট প্রোফাইল’ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মেরে ফেলতে হবে, কারো সাক্ষ্যই নেওয়া হবে না।

আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বিদেশি সাক্ষীদের আটকে দেওয়া। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে আসতে চেয়েছিলেন মুহিব আরজুমান খান, আম্বার হারুন সায়গাল, ইসহাক খান খাকওয়ানী এবং রিয়াজ আহমেদ নূহ। চারজনই পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক পরিমণ্ডলের মানুষ। তাদের বাংলাদেশে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের ভিসা পাওয়ার পথও বন্ধ করা হয়েছিল বলে গণভবনের নথিতে পাওয়া যায়। 

এর পেছনে ছিল তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইফার মেসেজ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন বিদেশি দূতদের কাছে কোনো মেসেজ পাঠায়, এই মেসেজগুলো সাইফার মেসেজ বলা হয়। এই সাইফারগুলো বেশিরভাগ সময় কোডেড সিক্রেট থাকে। এ ধরনেরই একটা সাইফার মেসেজ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের হাতে এসে পৌঁছেছিল। সেই সাইফার মেসেজে চার সাক্ষীর নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, ‘কোনোভাবেই তাদের যেন ভিসা না দেওয়া হয়।’

এ জায়গায় এসে আরো সরাসরি বলা যায়, এই সাইফার মেসেজের মাধ্যমে প্রমাণ হচ্ছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে কোনোভাবেই ফেয়ার জাস্টিসের ধারে-কাছেও নিতে পারেনি তার পরিবার। তাকে নিঃসন্দেহে হত্যা করা হয়েছে। এটা একটা জুডিশিয়াল মার্ডার এবং এর সঙ্গে আওয়ামী সরকার ও তার গণভবন সরাসরি জড়িত ছিল।

আমরা দেখেছি, এই বিচারপ্রক্রিয়ার বিতর্ক আরো তীব্র হয় স্কাইপ কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজামুল হক নাসিমের কণ্ঠের অডিওতে শোনা যায়, ‘সাকাকে যদি ঝুলিয়ে দিতে পারি, তাহলে আমাকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে, ওই জায়গা ফাঁকা আছে।’ এই পদের প্রলোভনও দেয় গণভবন তথা শেখ হাসিনা।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নিজেও আদালতের রায় নিয়ে বলেছিলেন, ‘রায় তো গতকালই ওয়েবসাইটে পাওয়া গেছে।’ এরপর তিনি বলেন, ‘এই রায় এখান থেকে হয়নি। এ রায় বেলজিয়াম (গণভবনের নির্দেশে) থেকে এসেছে।’ 

এখানেই শেষ নয়, এই ‘টার্গেট প্রোফাইল’-এর ভয়াবহতা আরো তীব্র হয়ে নেমে আসে কাদের চৌধুরী পরিবারের ওপর। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট আদালতে যাওয়ার পথে ডিবি পরিচয়ে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেইসি) সাত মাস গুম করে রাখা হয়। যেখানে দিন-রাতের পার্থক্য বোঝার কোনো উপায় ছিল না। খাবার দেখে দিন গুনতেন। একদিন বিরিয়ানি এলে বুঝেছিলেন ঈদ এসেছে। প্রথম দুই মাস একটি পেরেক দিয়ে দেয়ালে দিনের হিসাব রাখতেন তিনি।

তাকে তার বাবার রাজনীতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। তিনি আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেন কি না, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না, এসব প্রশ্ন করা হতো। তাকে মারধর করা হতো, কাপড় খুলে ছবি তোলা হতো, প্রতিবাদ করলে ঝুলিয়ে রাখার হুমকি দেওয়া হতো। চোখ বাঁধা, হ্যান্ডকাফ পরানো অবস্থায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও বাথরুমে নেওয়া হতো। নির্যাতনের ফলে শরীরে ঘা ও ফোঁড়া হলে সেলের ভেতরেই অস্ত্রোপচার করা হয়। জ্ঞান ফেরার পর মেঝেতে রক্ত ও ব্যবহৃত গজ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সেলের দেয়ালে আগের বন্দিরা লিখে রেখেছিল, ‘আপনাকে কতদিন এখানে রাখা হবে তা কেউ বলবে না।’ অন্যপাশে আঁকা ছিল বাংলাদেশের পতাকা। হুম্মাম কাদের চৌধুরী নিজের বন্দিত্বের চিহ্ন হিসেবে দেয়ালে লিখে রেখেছিলেন ‘এইচকিউসি’ এবং অপহরণের তারিখ।

এমনকি তার নামটাও সেখানে আসল নাম ছিল না। ওষুধের একটি মোড়কে তিনি দেখতে পান ‘ভিআইপি-১’। তখন বুঝতে পারেন, এটাই তার কোড নাম। এটাই আমাদের দেখায় গণভবনের টার্গেট প্রোফাইলের ভয়াবহতা।

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে শেখ হাসিনার শাসনের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করার জন্য আলাদা কোনো অলংকারের প্রয়োজন পড়ে না। গণভবনে ‘টার্গেট প্রোফাইল’ তৈরি করা হয়েছিল। সেই প্রোফাইলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে তার বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরী, ভাই গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামালউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরী, স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী, ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও ফজলুল কাদের চৌধুরী এবং মেয়ে ফারজিন কাদের চৌধুরীর নাম পর্যন্ত লেখা হয়েছে।

এটি শুধু নজরদারি ছিল না। এটি ছিল সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য হাসিনাশাহির সরাসরি নির্দেশ। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছিলেন তার ব‍্যক্তিগত টার্গেট; তার পরিবার ছিল সেই টার্গেটের বিস্তৃত পরিধি।

আর সে কারণেই আজ গণভবনের সেই নথি এত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আমাদের জন‍্য, শেখ হাসিনার গুম, খুনের হাকিকত বোঝার জন‍্য।

শেখ হাসিনার সাম্রাজ‍্যে গণভবন ছিল ক্ষমতার কেন্দ্র। একসময় যে ভবনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষকে অত‍্যাচারের নকশা তৈরি করা হতো, আজ সে ভবনেই সেই তথ্য জনগণ দেখছে। একসময় এই গণভবনে বসে হাসিনার চোখ ছিল তার টার্গেটের ওপর; আজ ইতিহাসের চোখ এসব নথি ও তার রেখে যাওয়া কুশাসনের প্রমাণের ওপর। তাই, ইতিহাসের এই বাস্তবতায় গুম, খুন, নজরদারি আর লুটপাটের কারখানা গণভবন আজ জুলাই জাদুঘর।

শেখ হাসিনার শাসনকে এ দেশের জনগণ ফ্যাসিস্ট বলে এ কারণেই। কারণ, এই শাসনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শুধু রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করার চেষ্টা ছিল না; তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার পরিবারকে টার্গেট করা হয়েছে, তাকে বিচারিক হত‍্যাকাণ্ডের শিকার করা হয়েছে, বৈধ সাক্ষীদের আটকে দেওয়া হয়েছে, তার সন্তানকে গুম করা হয়েছে। শেখ হাসিনা শুধু একজন মানুষকে পরাজিত করতে চায়নি, সে চেয়েছিল পুরো পরিবারকে শেষ করে দিতে। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যঙ্গ হলো, সেই খুনি নিজেই শেষ পর্যন্ত নিজের বিরুদ্ধে দলিল রেখে গেছে। গণভবনের ‘টার্গেট প্রোফাইল’।

যে ভবন থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নজরদারি ও টার্গেটের চোখে দেখা হতো, আজ সেই ভবনে দাঁড়িয়ে জনগণ ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ দেখছে। টার্গেট প্রোফাইলের এই নথিটি এবং আরো বহু নথি এখন জুলাই জাদুঘরের গ‍্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে, ৫ আগস্ট জনতার রোষানলে ধ্বংস হওয়া গণভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে একদল তরুণ গবেষক এই নথিগুলো উদ্ধার করেছেন।

সিয়াম আন নুফাইস, সাংবাদিক