সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির সুযোগ না থাকা ব্লক পদধারীদের জন্য আগের নিয়মের তিনটি টাইম স্কেল পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, নতুন করে উচ্চতর গ্রেড চালুর চেয়ে ২০১৫ সালের আগের নিয়মে তিনটি টাইম স্কেল ফিরিয়ে আনা বেশি কার্যকর হবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সময় কমিয়ে পাঁচ বছর করার যে প্রস্তাব করা হয়েছিল, সেটি বাতিল হয়ে যাওয়ার পর ব্লক পদে থাকা কর্মচারীদের গ্রেড পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্লক পদে থাকা কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগ নেই। ফলে তাদের কোনো ক্যারিয়ার প্ল্যানও নেই। একজন কর্মচারী এক পদ থেকে আরেক পদে পদোন্নতি পেতে হলে তার পরবর্তী উচ্চ পদ থাকতে হয়। সেটিই ক্যারিয়ার প্ল্যান। কিন্তু অনেক ব্লক পদের ক্ষেত্রে পরবর্তী কোনো উচ্চ পদ নেই। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একজন ফার্মাসিস্ট যে পদে চাকরিতে যোগ দেন, তার পরবর্তী উচ্চ পদ না থাকলে তাকে পদোন্নতি দেওয়ার সুযোগও থাকে না। একইভাবে একজন ড্রাইভার ব্লক পদে থাকলে তার পরবর্তী উচ্চ পদ কী হবে, সেটিও নির্ধারিত নেই।
আব্দুল মালেক বলেন, সরকার অনেক সময় বলে থাকে, ‘ব্লক পোস্ট’ বলে কোনো বিষয় নেই। তবে বাস্তবে অনেক কর্মচারীর ক্ষেত্রে পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় তারা দীর্ঘদিন একই পদে কাজ করেন। এ কারণে ২০১৫ সালের আগে তাদের জন্য টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের ব্যবস্থা ছিল। ২০১৫ সালের আগে তিনটি টাইম স্কেল এবং একটি সিলেকশন গ্রেডের ব্যবস্থা ছিল। সাধারণত চার বা পাঁচ বছর সন্তোষজনক চাকরি করার পর একজন কর্মচারী সিলেকশন গ্রেড পেতেন। এরপর পদোন্নতি না হলে নির্দিষ্ট সময় পর টাইম স্কেলের মাধ্যমে উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ ছিল।
তিনটি টাইম স্কেলের মধ্যে প্রথমটি ছিল চাকরির আট বছর পূর্তিতে। চাকরিতে যোগদানের পর আট বছরের মধ্যে কোনো কর্মচারীর পদোন্নতি না হলে, তিনি প্রথম টাইম স্কেল পেতেন। এর মাধ্যমে তার গ্রেড পরিবর্তন হতো। তিনি যে শাখারই কর্মচারী হন না কেন সাধারণ প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব বা অন্য কোনো বিভাগ পদোন্নতি না হলে এই সুবিধা পাওয়ার সুযোগ ছিল। এরপর আট বছর থেকে ১২ বছরের মধ্যে পদোন্নতি না হলে দ্বিতীয় টাইম স্কেল দেওয়া হতো। অর্থাৎ প্রথম টাইম স্কেল পাওয়ার পর আরও চার বছর চাকরি করেও যদি পদোন্নতি না হয়, তাহলে কর্মচারী দ্বিতীয় টাইম স্কেলের মাধ্যমে আরেকটি উচ্চতর গ্রেডে যেতেন।
তৃতীয় টাইম স্কেলটি ছিল ১৫ বছর পূর্তিতে। ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে কোনো পদোন্নতি না হলে ১৫ বছর পূর্তিতে কর্মচারী তৃতীয় টাইম স্কেল পেতেন। এর ফলে দীর্ঘদিন একই পদে থাকা কর্মচারীর গ্রেড পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতো। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন ফার্মাসিস্ট চাকরিতে যোগ দেওয়ার চার বছরের মাথায় সিলেকশন গ্রেড পেতে পারেন। এরপর আট বছর পূর্ণ হলে তিনি টাইম স্কেল পেয়ে একটি উচ্চতর গ্রেডে যেতে পারেন। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি না হলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আরও টাইম স্কেল পাওয়ার সুযোগ ছিল।
তবে ২০১৫ সালের গেজেটে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের ক্ষেত্রে নতুন বিধান করা হয়। সেখানে বলা হয়, একজন কর্মচারী টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড যে নামেই সুবিধা পান না কেন, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দুটি সুবিধা পাওয়ার পর আর তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ কেউ দুটি টাইম স্কেল পেলেও আর পাবেন না। আবার একজন যদি একটি টাইম স্কেল ও একটি সিলেকশন গ্রেড পান, তাহলেও তিনি আর এ ধরনের সুবিধা পাবেন না।
তিনি আরও বলেন, বেতন কমিশন ও সরকারের কাছে তারা বারবার এই সুবিধা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, সরকার সাধারণত কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়, কেড়ে নেয় না। কিন্তু আগের সরকার কর্মচারীদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা তিনটি টাইম স্কেল পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। কারণ তিনটি টাইম স্কেল বাতিল করে পরবর্তীতে দুটি উচ্চতর গ্রেড চালু করা হয়েছে। এর একটি ১০ বছর পর এবং অন্যটি ১৬ বছর পর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তার দাবি, ১০ বছর চাকরির পর উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তবে কর্মচারীরা খুব বেশি আর্থিক সুবিধা পান না। কারণ ১০ বছরে একজন কর্মচারী নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেয়ে বেতনের এমন একটি ধাপে পৌঁছে যান, যেখানে উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার পর বেসিক বেতন সামান্যই বাড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ১০, ২০ বা ৩০ টাকার বেশি হয় না। এ কারণে তারা নতুন উচ্চতর গ্রেড চান না বলে জানান তিনি। কর্মচারীদের জন্য আগের নিয়মের তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডই পুনর্বহাল করা প্রয়োজন।
শেষে তিনি বলেন, এবার পাঁচ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল দেওয়ার একটি প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবও বাতিল করা হয়েছে। তাই পাঁচ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার ব্যবস্থা তাদের প্রয়োজন নেই। ২০১৫ সালের আগের নিয়মে ফিরে গিয়ে তিনটি টাইম স্কেল পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি।