Image description

ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও হবিগঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষনিধন ও অবৈধ কাঠ পাচার বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বৃক্ষনিধন ও কাঠ পাচারের অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বন বিভাগের সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় বন আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পর আইনি ব্যবস্থা
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত সাতছড়ি ও রেমা-কালেঙ্গা বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে বিরল প্রজাতির গাছ ও সেগুন গাছ কেটে পাচার এবং ক্রয়ের অভিযোগের সত্যতা পায় জেলা এনএসআই। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি গোপনীয় প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় বন বিভাগের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে গাছ চুরির সঙ্গে জড়িত মূল চক্রের সদস্য উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়া কে প্রধান আসামী করে করা হয়। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিক মিয়া মহালদার ও শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া চুনারুঘাট পূর্বাঞ্চলের গাছ চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলার মিরাশি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগের নামও এজাহারে রয়েছে।

মামলায় মুনায়েম, শফিকুল ইসলাম আবুল, কালা মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জসিম, তাহির, জলিল, রফিক, হেলাল, মকবুল ও মাসুম বিল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। আর চোরাই কাঠ কেনার অভিযোগে বেলাল, জমরুত ও সোহেলকে আসামি করা হয়েছে।

ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে রেমা-কালেঙ্গা ও আশপাশের বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান বৃক্ষসম্পদ লুট করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব আলী ও ব্যারিস্টার সুমনের প্রভাব দেখিয়ে কৃষক লীগ নেতা মিজানুর রহমান সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে বন থেকে গাছ কাটার একটি চক্র পরিচালনা করে আসছেন।

তাদের অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলেও বন থেকে গাছ চুরি বন্ধ হয়নি। বরং স্থানীয় কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে চক্রটি সক্রিয় রয়েছে।

এ ছাড়া সোহাগের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাসহ একাধিক মামলা থাকার পরও তিনি গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে মামলাটি হয়েছে। আমরা দ্রুত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’