স্বামীর মৃত্যুর দুই দিনের মাথায় কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে করে তিনি ঢাকার বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. জান্নাত-উল ফারহাদ জানান, দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির জন্য বুধবার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন তার মেয়ে তনী দীপাভলী নেওয়াজ। আবেদনের প্রেক্ষিতে দীপু মনিকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়।
দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ ঢাকার কলাবাগানে নিজ বাসভবনে নেওয়ার কথা। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে গুলশানের আজাদ মসজিদে। সেখানে বাদ জোহর জানাজা ও দোয়া শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
জুলাই গঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি হয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী আছেন দীপু মনি। স্বামীর মৃত্যুর পর তার প্যারোলে মুক্তির জন্য বুধবার সকালে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়।
আবেদনের বিষয়ে দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম বুধবার বলেছিলেন, আমরা চার দিনের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলাম। জেলা প্রশাসক ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
কারা সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীপু মনির প্যারোলের মেয়াদ থাকবে। কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী পুলিশি পাহারায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানের সামনে ও পেছনে পুলিশের দুটি পৃথক গাড়ি ছিল।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. জান্নাত-উল ফারহাদ জানান, প্যারোলের নির্ধারিত সময় শেষ হলে তাকে পুনরায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে আনার কথা রয়েছে।