Image description

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আবারও দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে সাগরের আলফা অ্যাংকরেজে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামালবাহী ‘আনাসা’ নামের একটি জাহাজ নোঙর করার সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা খালি জাহাজ ‘জাহান জাহাব’কে ধাক্কা দেয়। এতে আনাসা জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দুই জাহাজের নাবিকরা অক্ষত ও নিরাপদে আছেন।

দুর্ঘটনার পর দুটি জাহাজই নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্দরের উদ্ধারকারী টাগবোট ‘কাণ্ডারী-৮’ ও ‘বিএলভি লুসাই’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সহায়তা দিয়েছে।

জানা গেছে, এবারও বন্দরের নিজস্ব অভিজ্ঞ পাইলটের পরিবর্তে স্থানীয় গাইড বা বে পাইলট দিয়ে জাহাজটি নোঙর করানোর সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে গত শুক্রবার ডিজেলবাহী ‘এমটি সি স্পাইক’ জাহাজও বে পাইলটের মাধ্যমে নোঙর করতে গিয়ে আগে থেকে নোঙর করা ‘সান শাইন’ জাহাজকে ধাক্কা দেয়। এতে ‘সি স্পাইক’ জাহাজটি অচল হয়ে পড়ে। এর ইঞ্জিনরুমে পানি ঢুকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে ব্ল্যাকআউট হয়। বর্তমানে জাহাজটি ব্রাভো অ্যাংকরেজে রয়েছে।

আনাসা জাহাজটির পাইলটিংয়ে ছিলেন ক্যাপ্টেন নাজমুল। তিনি আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, তীব্র স্রোত নাকি নেভিগেশনে অনভিজ্ঞতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি বলতে চান না। বিষয়টি শিপিং লাইন বলতে পারবে। তবে এমটি সি স্পাইক দুর্ঘটনার সঙ্গে এ ঘটনার তুলনা করার সুযোগ নেই।

 

জানা গেছে, আনাসা জাহাজে বসুন্ধরা গ্রুপের জন্য ৩৫ হাজার টন স্ল্যাগ আনা হয়েছিল। অন্যদিকে ‘জাহান জাহান’ গত ২৬ জুলাই মোংলা বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসে। পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল জাহাজটি। এর মালিক কেএসআরএম গ্রুপ।

বন্দরের মেরিন বিভাগ জানিয়েছে, আনাসা জাহাজের ইঞ্জিনরুম ও স্টিয়ারিং গিয়ার সচল রয়েছে। তবে জাহাজের বাইরের অংশে ফাটল ও বাঁক সৃষ্টি হয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে নিরাপদে ভাসমান রয়েছে এবং এর কোনো ট্যাংকে পানি ঢোকেনি।