Image description
সাত প্রকল্পে ঋণ ১৫ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা

চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন-পুরাতন সাত প্রকল্প মিলিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছে ঋণ আছে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা। বিষয়টি নিয়ে বিপাকে নগরে পানি সরবরাহ করা সংস্থাটি। তবে ভোক্তারা বলছেন, ওয়াসা প্রতি বছর পানির দাম পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধির নিয়মকে কাজে লাগাচ্ছে। এই নিয়ম বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পানির দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে বোর্ড সভায়। এর মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের খড়গটি গ্রাহকের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা চলছে।

ওয়াসা পানির দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রতিবেদনের পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, ওয়াসার মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্পে ঋণ আছে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-১-এ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২-এ প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ভাণ্ডালজুরি পানি সরবরাহ প্রকল্পে প্রায় ১  হাজার ৩০০ কোটি টাকা। চারটি প্রকল্পে মোট ৬ হাজার ১০০ কোটি টাকা ঋণ আছে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হওয়ার পর এখান থেকে নগরে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের বিপরীতে ওয়াসাকে প্রতি বছর ২১ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করতে হয়।

অন্যদিকে, ওয়াসার চলমান আরও তিনটি প্রকল্পে মোট ৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকার ঋণ আছে। এর মধ্যে ফ্রান্সের উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা এএফডির কাছে ১ হাজার ৮৭২ কোটি ১৩ লাখ, বিশ্বব্যাংকের কাছে ৩ হাজার ২৬৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা ও জাইকার কাছে ৪ হাজার ১৪৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঋণ আছে। এসব প্রকল্প শেষ হবে ২০৩০ সালে এবং ঋণ পরিশোধ শুরু হবে ২০৪০ সাল থেকে। সাত প্রকল্পে মোট ঋণ ১৫ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ওয়াসা অনিয়ম ও পানির অপচয় রোধ করতে পারছে না। 

উল্টো এখন মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করছে। এমনিতেই নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখীর কারণে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। ওয়াসা যদি পানির দাম বাড়ায় তাহলে মানুষ যাবে কোথায়। এখন ঋণ পরিশোধের খড়গটি গ্রাহকের কাঁধে চাপানোর চেষ্ট করছে ওয়াসা। জানা যায়, বর্তমানে ওয়াসার মোট গ্রাহক ১ লাখ ৪ হাজার ৫১১। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশই আবাসিক। আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটে (১ হাজার লিটার) পানির দাম ১৮ টাকা এবং বাণিজ্যিকে ৩৭ টাকা দিতে হয়। নতুন করে দাম বাড়ালে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। ২০০৯ সালে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট পানির দাম ছিল ৫ টাকা ৪১ পয়সা, বাণিজ্যিকে ছিল ১৫ টাকা ৩২ পয়সা।

গত এক দশকে ওয়াসা পানির দাম বাড়িয়েছে চারবার। সর্বশেষ ২০২২ সালে বাড়ানো হয়েছিল ৩৮ শতাংশ। গত ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় পানির দাম পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব ওঠে। এটি পাস হলে পানির দাম আবারও বাড়বে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, গত কয়েক বছরে চার দফা বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। তাছাড়া নিয়মিত বাড়ছে বিভিন্ন কেমিক্যালের দাম। ফলে আমাদের ব্যয় বেড়েছে। তাই রাজস্ব বিভাগ পানির দাম পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে।