Image description

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তারা যেন কোনোভাবে বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ না পায়। তারা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের মতো চলে যাবে, কিন্তু দিন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ। গতকাল চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রাম জেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে। যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা সেই শপথ নিয়ে প্রতিজ্ঞা করি যে বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নতুন বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামের একটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন। এ সময় নতুন বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারাও রোপণ করেন তিনি।

পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও হাঁস-মুরগি প্রদান করেন। সংসদে সরকারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। বিরোধী দল বা অন্য কারও যদি কোনো পরিকল্পনা থাকে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না এবং জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না। 

দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছরের বেশি সময় আগে; এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই, এখন কাজ করার ও দেশ গড়ার সময়।’ দেশের প্রতিটি পরিবারের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে, তাই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের পাশে থাকা। সুখদুঃখে দেশের মানুষের পাশে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, অসুস্থ মানুষদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নারী-পুরুষনির্বিশেষে তরুণ-যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’ 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও চালু করা হয়েছে কৃষক কার্ড, যা সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি লবণচাষিরাও পাবেন। লবণচাষিদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে লবণের নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণা শিগগিরই দেওয়া হবে। যার ফলে লবণচাষিদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।’  চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক করিডর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকালে আমি মাতারবাড়ীসহ চট্টগ্রামের মহেশখালী ও মিরসরাই অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। বিশাল সমুদ্র আমাদের জাতীয় সম্পদ।

চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশিবিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে। সম্প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে বহু শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার আমলে এই দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে হাতে গোনা কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা এই দেশের মানুষের পক্ষে ছিল না। কিছু মানুষের সুবিধার জন্য অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে এই কাজ শুরু করেছি। ইনশাল্লাহ, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা কেমন হবে-সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন পরিকল্পনা নিচ্ছি, যাতে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিলকারখানা কিংবা বাসাবাড়ি সব জায়গায় মানুষ যেন ঠিকভাবে বিদ্যুৎ পায়, এবং গাড়ি-মোটরসাইকেলসহ সবকিছুতে মানুষ যেন সহজে গ্যাস পেতে পারে।’

জনগণই বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস-প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণই বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস। জনগণের সমর্থন থাকলে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ।’ গতকাল চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রপারে আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা হয়েছে। এ বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। আল্লাহর রহমতে, তাঁদের হাতে ১০০ বাড়ির চাবি তুলে দিতে পেরেছি। কিছুসংখ্যক দুস্থ নারীকে আমরা চাল দিয়ে সহযোগিতা করেছি। বর্তমান সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন।

এ সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সুখদুঃখে মানুষের পাশে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তরুণসমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঁশখালী উপজেলার মধ্যে ১০-১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড আগামী অর্থবছরের মধ্যে তুলে দেব এবং আগামী চার বছর এটি চলবে। আরও অনেক মা-বোন ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন। আমাদের লক্ষ্য ছিল, ভাইদের পাশাপাশি যাতে বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারে। একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারে, সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারে, স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে।’ 

সমাবেশে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। সমুদ্রকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রা কীভাবে উন্নত করা যায়, সেটির প্রচেষ্টা চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত কীভাবে আমরা বিভিন্ন মিলকারখানা স্থাপন করার মাধ্যমে এই দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব, এই দেশের মানুষের ব্যবসাবাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে পারব, সেই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, তার জন্য আজকে আমি মাতারবাড়ী গিয়েছিলাম।’

হাটহাজারী মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা : গতকাল সন্ধ্যায় হাটহাজারী কলেজ মাঠে বন্যায় তিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সহায়তা অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি বিশেষ গোষ্ঠিকে উদ্দেশ্য করে বলেন- বাংলাদেশে কিছু রাজনৈতিক দল আছে, তারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। যেভাবে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। যেভাবে তারা ৮৬ সালে এই চট্টগ্রামের সেই মাটিতে বলেছিল যারা নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেইমান হবে। কিন্তু ঢাকায় ফিরে গিয়েই সেই নির্বাচনে আরেক স্বৈরাচারের অধীনে নির্বাচন অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের সাথে আছে একটি গুপ্ত বাহিনী। এই গুপ্ত বাহিনীকে আমরা আবারও পরবর্তীতে দেখেছি যে ৯৬ সালে। আবার দেশের মানুষের সাথে গাদ্দারি করে তারা আবার স্বৈরাচারের সাথে হাত মিলিয়েছিল। গণতন্ত্রের বিপক্ষে তারা অবস্থান করেছিল। আজকে আবারও এই গুপ্ত বাহিনী এদেরকে আমরা দেখছি। তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, মানুষের সামনে মিথ্যা কথা বলছে, তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল। এছাড়া উপ¯ি'ত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্ত"পরে (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ, বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হকসহ বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।