রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে স্থাপিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার প্রথম দিনেই টিকিটের মূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা প্রবেশমূল্যকে ‘বেশি’ বলে মন্তব্য করেছেন তারা। অনেকের দাবি, অন্তত উদ্বোধনের পর প্রথম কয়েকদিন বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যেও জাদুঘরের সামনে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। প্রবল বৃষ্টির কারণে অনেকে কিছু সময় বাইরে অপেক্ষা করলেও বৃষ্টি কমতেই একে একে সবাই জাদুঘরে প্রবেশ করেন।
প্রবেশপথে টিকিট কাউন্টারে ১ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ২০ টাকা এবং ১২ বছরের বেশি বয়সী নারী-পুরুষের জন্য ৫০ টাকা করে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছিল। আর এই মূল্য নিয়েই অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেক দর্শনার্থী।
কুমিল্লার বরুড়া থেকে আসেন আবদুল গাফ্ফার। তিনি বললেন, ‘ভেবেছিলাম প্রথম দিন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তাই সকাল ৮টার দিকে রওনা দিয়ে দুপুরে এখানে পৌঁছেছি। এসে দেখি প্রচুর ভিড়, তার ওপর বৃষ্টির কারণে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমার মনে হয়, অন্তত প্রথম কয়েকদিন বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ রাখা উচিত ছিল।’
জুলাই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে ‘আয়নাঘর’তার সঙ্গে আসেন অপর বন্ধু ফয়জুল্লাহ। তিনি জানালেন, তারা পাঁচ বন্ধু মিলে মাদ্রাসা থেকে ছুটি নিয়ে জাদুঘর দেখতে এসেছেন। তিনি বললেন, ‘৫০ টাকা আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বেশি। ১০ বা ২০ টাকা হলে সবাই সহজে আসতে পারত। ৫০ টাকা নেওয়াটা একটু বেশি মনে হয়েছে।’ তার অন্য বন্ধু বলেন, ‘আমরা ছাত্র। আমাদের জন্য আলাদা ছাড় থাকলে ভালো হত।’
একই ধরনের মত প্রকাশ করেন দর্শনার্থী ফাতেমা বেগমও। তিনি বললেন, ‘প্রবেশমূল্যটা একটু বেশি হয়ে গেছে। এটি আরও সহনীয় হলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধা হত।’
নিজেকে জুলাইযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে সৈয়দ আবদুল্লাহ নামের একজন বলছিলেন, টিকেটের দাম নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। এই দাম ঠিক আছে। কিন্তু দুই-একদিন বা চলতি মাসে জুলাই উপলক্ষে ফ্রি রাখার আবেদন জানান তিনি।
আবদুল্লাহর বাড়ি খুলনায়। থাকেন সাভারের দিকে। এদিকে, টিকিটের মূল্য নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও দর্শনার্থীদের আগ্রহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও ইতিহাস জানতে জাদুঘরে ভিড় করেন। অনেকেই বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরতে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।