Image description

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসান বলেছেন, গতকালক রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অনুষ্ঠানকে কিছু ব্যক্তি বানচাল করার জন্যে সুপরিকল্পিতভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করে। যেটাকে আমরা ইদানিং মব কালচার হিসেবে জানি, সেই কাজটি তারা করে। একজন সংসদ সদস্য নতুন যে দল গঠন হয়েছে এনসিপি তার নেতা, সেই একজন সংসদ সদস্য তার কিছু অনুসারীরা সেখানে খুব সুপরিকল্পিতভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করে। এমন একটি অবস্থা তৈরি করে, সেখানে আমাদের দেশের সুনাম সারা পৃথিবীতে যে ক্ষতি হয়েছে সেটি অপূরণীয়। কারণ সেখানে উপস্থিত সব কূটনীতিবিদ যারা ছিলেন তারা ভীতসন্ত্র হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ পরিবারকে অনুদান প্রদান ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, তারা যে অজুহাত দিয়েছিল, যে কারণটি দেখাচ্ছিল, সেই বিষয়ে আমি বিস্তারিত এখন বলবো না। কিন্তু কোনও মানুষের একটা প্রতিবাদ বা তার একটা মন্তব্য বা একটা মত থাকতেই পারে বা কোনও একটা বিষয়ে সে দ্বিমত পোষণ করতেই পারে। কিন্তু একটা রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে সেই দ্বিমত প্রকাশ করার অনেক সভ্য উপায় রয়েছে। আমাদের ওই অনুষ্ঠানে যারা মন্ত্রী ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আজম খান তিনি রীতিমতো হাত জোড় করেছিলেন, কারণ সেখানে বিদেশি কূটনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু যারা সুপরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থকে উদ্ধারের জন্য দেশের সুনাম নষ্ট করেছে, সারা পৃথিবীতে আমাদের যে কূটনীতিবিদরা বাংলাদেশে উপস্থিত ছিল তাদের সামনে আমাদের সম্মানহানি করেছে। আমি মঞ্চে বসা ছিলাম, আমি খুব ভালোভাবে সেটি দেখতে পেয়েছি। তারা কীভাবে সেই জায়গায় অবস্থান নেয় এবং তাদের যে একটা পরিচয় ‘জুলাই যোদ্ধা’ সেটিকে ব্যবহার করে সেখানে অনুপ্রবেশ করে অনেকেই এবং এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। আজ আমরা এই কথাটি বলতে চাই, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনও এক ব্যক্তি কোনও একটি দল বা কোনও একটি গোষ্ঠীর ছিল না।

তিনি বলেন, এই জুলাই যোদ্ধাদের বা জুলাই যোদ্ধা শব্দটিকে ব্যবহার করে একটি ছোট গোষ্ঠী– জুলাইয়ে যে আন্দোলনটি হয়েছিল সেখানে দল মত ধর্ম বর্ণ গোত্র বয়স নির্বিশেষে এমন কোনও মানুষ নেই যারা অংশগ্রহণ করেন নাই। চার বছরের শিশু রিয়া গোপ থেকে শুরু করে রিকশা শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, ছাত্র-জনতা প্রায় ২ হাজারের কাছাকাছি মানুষ ৩৬ দিনে জীবন দিয়েছে। এই দেশের জন্যে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাই এককভাবে কোনও গোষ্ঠী বা কোনও ব্যক্তিবর্গ যদি এটার কৃতিত্ব নিয়ে রাজনীতি করতে চায়, সেটা কোনও রাজনীতি হতে পারে না। সেই রাজনীতি আসলে রাজনীতি নয়। সেটা একটা দোকান খুলে বসার মতো বলতে হবে।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করতে হলে একটা নীতি থাকতে হবে এবং নীতি আদর্শের ওপরে ভিত্তি করে রাজনীতি করে যেতে হবে। আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠা করা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে আদর্শ করেই রাজনীতি করেছি। আন্দোলন সংগ্রাম লড়াই করেছি। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে আমরা আমাদের আগামী দিনের রাজনীতি করার যে নীতি আদর্শ সেটিকে নির্ধারণ করে আজকের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা আগামী বাংলাদেশ একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে চলেছি।

 

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই স্বাধীন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছিলাম। বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছিল, সেটি ছিল ১৯৭১ সাল এবং আমরা কোনদিনও মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে চিন্তা করলে সেটি যারা করবে, আসলে ধরে নিতে হবে তারা বাংলাদেশের বিপক্ষেরই শক্তি ছিল। ১৯৭১ সালে যার কারণে তাদের ইতিহাস কলঙ্কিত দেখেই তারা হয়তোবা এখন সেটিকে মুছে ফেলার চেষ্টা করতে চায় অনেক সময় কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ বোকা নয়। বাংলাদেশের জনগণ নির্বোধ নয়। বাংলাদেশের একেবারে সাধারণ গ্রামের মানুষটিও বুঝে জানে যে মুক্তিযুদ্ধ কি এবং কারা বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি ছিল। বাংলাদেশের পক্ষে বা বিপক্ষে ইতোপূর্বে কাজ করেছে। আমি খালি এতটুকু বলতে চাই, আপনাদের ইতিহাস যদি দেখেন বিএনপির আমাদের কোনও গণহত্যার ইতিহাস নাই। আমাদের কোনও সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান করার ইতিহাস নাই। কিন্তু অন্য দুটি বড় রাজনৈতিক দল যদি বলি তাহলে তাদের ৭১ এর ইতিহাস কি ছিল? তাদের অবস্থান কি ছিল বাংলাদেশ প্রশ্নে সেটাও আমরা জানি। গণহত্যার সঙ্গে তারা জড়িত ছিল কিনা সেটাও আমরা জানি। ২০২৪ সালে আরেকটি দল, তারাও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল কিনা বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল কিনা সেটাও বাংলাদেশের মানুষ খুব ভালো করেই জানে।


ইশরাক হোসেন বলেন, যারা জুলাই যোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং গতকাল এই ঘটনার পর সেই রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং আজ বিরোধীদলীয় যে দাবি করেছে, ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করছি আমরা, এটা কোনোদিনও কি সম্ভব? ২০২৪ সালে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এখন কি ইতিহাস বিকৃত করে একটা কিছু চালালেই সেটা সম্ভব হয়ে যেতে পারে? না। সেখানে যে প্রদর্শনীটি করা হয়েছিল তথ্যচিত্র সেটা কয়েক মিনিটের এবং সেই অনুষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে এটা কোনও ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছিল না। তাদের যে অবদান সেটাকে তো আমরা কোনোদিনও অস্বীকার করি নাই, করবো না। কেন আমরা তাদের অবদানকে অস্বীকার করবো, তারা তো আমাদেরই ভাই, আমরা একসাথেই কাঁধে কাধ মিলিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলাম খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, তাহলে আজ পুরা রাষ্ট্রকে কেন সারা বিশ্বের কূটনীতিবিদদের সামনে লজ্জিত এবং অপমানিত করলো তারা ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্যে? তাদের যদি কোনও মতপার্থক্য থাকতো, তার জন্যে কিন্তু যথেষ্ট সভ্য উপায় ছিল আমাদের সঙ্গে কথা বলার, আমাদের সঙ্গে কমিউনিকেট করার। আমরা সেই জিনিসটা সংশোধন করতাম। কিন্তু তারা সেটি না করে যে অন্যায় আচরণটি করেছে তার মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়ে যায়, আসলে ওইটা ছিল একটা অজুহাত, যে কোনও অজুহাতেই তারা গোলযোগ করবে। এ ধরনের একটা পরিকল্পনা শুধু ওই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে না, সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা করেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, যখন অনুষ্ঠানটি শুরু হয় তার আগে শহীদ পরিবারের সঙ্গে কথা বলছিলাম। সেখানে গিয়ে আমি শহীদ পরিবারদের মায়েদের কাছ থেকে বাবাদের কাছ থেকে যারা সন্তান হারিয়েছে যে ধরনের অভিযোগ পেয়েছি এগুলা যদি এখন আমি বলি তাদের রাজনীতির ‘র’ আর থাকবে না।