Image description

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শাখা ছাত্রদল। একই সঙ্গে কোনো ধরনের ‘মববাজি’ বা শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।

তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সুন্দর ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে এবং জবিয়ানদের সব অধিকার আদায়ে ছাত্রদল অতীতেও কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। সব প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন কোনো বাঁকা পথে বা মববাজির মাধ্যমে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট না করেন। সাধারণ শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এ ধরনের অপসংস্কৃতি মেনে নেবে না।

মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, গত দুই দিন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। সামনের দিনেও সেই ধৈর্য বজায় রাখবেন। একই সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়া এবং জবিয়ানদের স্বার্থে আপসহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন। ক্যাম্পাসে ক্লাস ও পরীক্ষা চলমান থাকা পর্যন্ত শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। জবিয়ানদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। এ সময় নেতাকর্মীরা ‘খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই’, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জিন্দাবাদ’, ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস আমরাই গড়ব’ এবং ‘শিক্ষা, ঐক্য, প্রগতি ছাত্রদলের মূলনীতি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

এ ছাড়া ‘দিল্লি গেছে স্বৈরাচার’, ‘দিল্লি যাবে রাজাকার’, ‘পিন্ডি যাবে রাজাকার’ এবং ‘রাজাকারের স্বৈরাচার, মিলে মিশে একাকার’—এ ধরনের স্লোগানও দিতে দেখা যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ নির্বাচিত অন্য নেতারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মো. ইব্রাহীম খলীলসহ জকসু ও ছাত্রশিবিরের অন্য নেতাদেরও দেখা যায়।

এদিকে ক্যাম্পাসের শহীদ সাজিদ অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে এবং শহীদ মিনারের পাশে ছাত্রদলের সুমন সর্দার গ্রুপ, শামসুল আরেফিন ও জাফর আহমেদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি সংগঠনটির নেতারা ক্যাম্পাস চত্বরে কোনো শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দিচ্ছেন না বলেও দেখা যায়।