Image description

ঘি অনেকেরই পছন্দের খাবার। ভাত, খিচুড়ি, রুটি কিংবা বিভিন্ন মিষ্টি তৈরিতে ঘি ব্যবহার করা হয়। তবে বাজারে ভেজাল ঘির অভিযোগও নতুন নয়। তাই ঘি কেনার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে, এটি আসল নাকি ভেজাল।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যাব পরীক্ষাই ঘির বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। তবে ঘরেও কয়েকটি সহজ পদ্ধতিতে ঘির গুণগত মান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এসব পরীক্ষায় নিশ্চিত সিদ্ধান্ত পাওয়া না গেলেও ভেজালের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা মেলে।

 

হাতের তালুর পরীক্ষা

 

এক চামচ ঘি হাতের তালুতে নিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন।

 

খাঁটি ঘি শরীরের তাপমাত্রায় দ্রুত গলে যেতে শুরু করে। যদি অনেকক্ষণ একই অবস্থায় থাকে বা অস্বাভাবিকভাবে শক্ত থাকে, তাহলে তাতে অন্য কোনো চর্বি বা তেল মেশানো থাকতে পারে। তবে শুধু এই পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

 

গরম করার পরীক্ষা

 

একটি চামচে অল্প ঘি নিয়ে হালকা আঁচে গরম করুন।

 

খাঁটি ঘি সাধারণত দ্রুত গলে গিয়ে সোনালি বা হালকা বাদামি রঙ ধারণ করে এবং মনোরম সুগন্ধ ছড়ায়। অন্যদিকে ভেজাল ঘি গলতে বেশি সময় নিতে পারে বা অস্বাভাবিক অবশিষ্টাংশ রেখে যেতে পারে।

 

ঘ্রাণ পরীক্ষা

 

ঘি গরম করলে এর গন্ধ আরও স্পষ্ট বোঝা যায়।

 

খাঁটি ঘির একটি স্বাভাবিক দুধের মতো ও বাদামি সুগন্ধ থাকে। যদি তীব্র রাসায়নিক, কৃত্রিম বা বাসি গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি ভালো মানের নাও হতে পারে।

 

ফ্রিজে রেখে দেখুন

 

একটি ছোট পাত্রে ঘি রেখে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন।

 

খাঁটি ঘি সাধারণত সমানভাবে জমে যায়। যদি আলাদা স্তর তৈরি হয় বা কিছু অংশ শক্ত এবং কিছু অংশ নরম থাকে, তাহলে সেটি ভেজালের ইঙ্গিত হতে পারে।

 

পানির পরীক্ষা

 

এক গ্লাস পানিতে এক চামচ ঘি দিন।

 

খাঁটি ঘি সাধারণত পানির ওপরে ভেসে থাকে। যদিও এই পরীক্ষাটি শতভাগ নির্ভুল নয়, তবু এটি প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে।

 

ঘি কেনার সময় কী খেয়াল রাখবেন?

  • বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড বা পরিচিত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন।
  • উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ দেখে কিনুন।
  • উপাদান তালিকায় অপ্রয়োজনীয় সংযোজন আছে কি না দেখুন।
  • প্যাকেটের সিল অক্ষত আছে কি না নিশ্চিত করুন।

 

ভেজাল ঘি খেলে কী হতে পারে

 

ভেজাল ঘিতে নিম্নমানের তেল, চর্বি বা অন্যান্য উপাদান মেশানো থাকলে তা নিয়মিত খাওয়ার ফলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে হৃদ্‌স্বাস্থ্য, হজম এবং রক্তে চর্বির মাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সন্দেহজনক ঘি ব্যবহার না করাই ভালো।

 

ঘরের কয়েকটি সহজ পরীক্ষায় ঘির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও এগুলো শতভাগ নির্ভুল নয়। তাই শুধু এসব পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে বিশ্বস্ত উৎস থেকে ঘি কেনা এবং মানসম্মত পণ্য বেছে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। যদি কোনো ঘির রং, গন্ধ বা স্বাদ অস্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে সেটি ব্যবহার না করাই ভালো।

 

সূত্র: এই সময় অনলাইন