Image description

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বেড়েছে মশার উপদ্রব। দিন-রাত কোনো সময়ে বাইরে দাঁড়ানো যায় না। সন্ধ্যার পরে ঘিরে ধরে; হাত দিয়েও মারা যায়। অথচ উড়ন্ত মশা মারতেই বেহাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা দক্ষিণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মশক নিধনের কীটনাশকের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে দুই কোটি টাকা বেশি। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একই কাজে বরাদ্দ ছিল ৩৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া ওষুধ স্প্রের যন্ত্র পরিবহনে প্রতিবছর দেড় থেকে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রত্যেক বছর ডিএসসিসির বরাদ্দ বাড়ে। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে মশাও। প্রতিদিন বিকেলে উড়ন্ত মশা মারতে ফগিং করার কথা থাকলেও, কোনো কোনো এলাকায় মাসে একবার দেখা মেলে ডিএসসিসি কর্মীদের।

নগরীর বাসিন্দারা জানান, কোথাও কোথাও একই এলাকায় বারবার ফগিং এবং এডিস মশা মারতে ওষুধ ছিটানো হয়। পাশের এলাকায় ঘুরেও তাকান না মশক নিধনকর্মীরা। বংশাল থানার আনন্দ বেকারি এলাকার বাসিন্দা মাহফুজা রিফাত স্ট্রিমকে বলেন, যেসব কীটনাশক স্প্রে করা হয়, তা কাজের না। আমাদের এলাকায় সেভাবে স্প্রে করা হয় না। করলেও অনেক দিন পরপর। মশা অনেক বেড়ে গেছে। ময়লা-আবর্জনাও ঠিকমতো পরিষ্কার করে না। এমনকি বাসার ময়লাও প্রতিদিন নিতে আসেন না কর্মীরা।

অভিযোগের বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের লোকবল খুবই কম। এজন্য এক এলাকা থেকে নির্ধারিত জায়গায় ঘুরে আসতে ৭-৮ দিন লেগে যায়। ছোট ছোট এলাকায় সপ্তাহে দুদিনও ফগিং করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সকালে লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রমে ফগিংয়ের মতো শব্দ হয় না। এজন্য মানুষ বুঝতে না পেরে অভিযোগ করেন– তাদের এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম হয় না।’

 

ঢাকা দক্ষিণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মশক নিধনের কীটনাশকের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে দুই কোটি টাকা বেশি। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একই কাজে বরাদ্দ ছিল ৩৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।

 

সরেজমিন ঢাকা দক্ষিণের বংশাল, লালবাগ, শাহবাগ থানার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পাওয়া যায়। রাস্তার আশেপাশে প্লাস্টিক পাত্র, ডাবের খোসায় বৃষ্টির পানি জমা পাওয়া যায়। এডিস মশার বংশবিস্তারের উপাদান খালি চোখে মিললেও নির্বিকার প্রশাসন।

বংশাল থানার আনন্দ বেকারি এলাকায় ফগিং করেন ডিএসসিসির কর্মী মো. কামরুজ্জামান। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘সব এলাকায় প্রতিদিন যেতে পারি না। একেক এলাকায় একেক দিন ফগিং করি।’ বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, ওষুধ ছিটানোর পরও মশা কমছে না। রাজধানীর নীলক্ষেত আবাসিক এলাকার বাসিন্দা শরীফ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় নিয়মিত ফগিং করা হয় না। মশা নিধনে যে কীটনাশক ব্যবহার করছে, তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। মশার যন্ত্রণায় দিনেও কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের মশক সুপারভাইজার শেখ ইকবাল হোসাইন স্ট্রিমকে বলেন, সকালে লার্ভা ধ্বংসে ওষুধ স্প্রে করা হয়। এলাকা ভাগ করে প্রতিদিন এসব ওষুধ ছিটানো হয়। আমরা এক জায়গায় তিন দিন পরপর স্প্রে করি। কারণ এই কীটনাশক তিন দিন পর্যন্ত কার্যকর। আর বিকেলে উড়ন্ত মশা নিধনে ফগিং করা হয়।