চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি নির্মাণাধীন ভবন লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ওই ভবন মালিকের অভিযোগ, বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কয়েকবার কল দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে।
আজ রবিবার সকালে হাটহাজারী থানার বড়দিঘীর পাড় এলাকায় মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের ধারণা, বিদেশে পলাতক ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
একইভাবে গত ১৩ জুলাই দুপুরে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ‘ডিজিটাল ডট নেট’ (ডিডিএন) নামে একটি ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। হামলার দুইদিন আগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুনকে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে কল দিয়ে এককালীন দুই কোটি ও মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। কলদাতা নিজেকে সন্ত্রাসী ডেভিড মামুন নামে পরিচয় দিয়েছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় হামলার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে চকবাজার থানায় মামলা করা হয়।
সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের প্রকৃত নাম মোবারক হোসেন ইমন। বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ইমন। চাঁদার জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন আবাসিক ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ সন্ত্রাসী গ্রুপের হামলার একাধিক ঘটনা আছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানালেন, ভবন মালিক জসিম উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, গত একমাস ধরে তাকে কয়েকবার কল করে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। তবে কলদাতা নিজের পরিচয় উল্লেখ করেননি।
‘কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম সিটিতে একটি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সেই হামলায় যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, বড়দিঘীর পাড়ের ঘটনায়ও তারা জড়িত কী-না সেটা তদন্ত করে দেখছি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমরা কয়েকজনকে শনাক্ত করেছি। এখন তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি’ – বলেন তারেক আজিজ।
পুলিশ জানায়, নির্মাণাধীন ভবনটির মালিক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বড়দিঘীর পাড় এলাকায় একটি পাইকারি মুদি দোকান আছে। টেম্পুতে করে মুখে মাস্ক পরা ৭-৮ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তার নির্মাণাধীন বাড়িতে ঢুকে প্রথমে শ্রমিকদের মারধর শুরু করে। এরপর বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।