Image description

আওয়ামী লীগের সব অপকর্মের সহযোগী ছিলেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু—এমন অভিযোগ তুলে তার বিচার ও গ্রেপ্তার দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হান্নান মাসউদ।

 

শনিবার (২৫ জুলাই) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে এসব কথা বলেন হান্নান মাসউদ।

 

তিনি বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ চেয়েছিলাম। এখন একই কারণে তার গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

 

হান্নান মাসউদ বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি কয়েকবার রাষ্ট্রের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছেন।

 

শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার বিষয়ে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু একবার বলেছেন পদত্যাগপত্র দেওয়া হয়েছে, আবার বলেছেন দেওয়া হয়নি। তিনি সরাসরি শপথ লঙ্ঘন করেছেন। রাষ্ট্রপতির মতো পদে থেকে এভাবে শপথ লঙ্ঘন করা এক ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সব অপকর্মের সহযোগী ছিলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। দলীয় স্বার্থের কারণে বিএনপির নেতারা অনেক কিছু ভুলে যান। এখন হয়তো রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তারের বিষয়ে তারা দ্বিমত পোষণ করছেন। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতি যখন বিপজ্জনক হয়ে উঠবেন, তখন তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না—এমন অনেক আইন বের হয়ে যাবে।

 

বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে হান্নান মাসউদ বলেন, দেশের স্বার্থ বিবেচনা না করে তারা কীভাবে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়, সেটিই বিবেচনা করছেন।

 

সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার থাকার সময়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিএনপি হয়তো ভুলে গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি দুদক কমিশনার থাকাকালে তার নেতৃত্বেই এমন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল যে খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করেছেন। এ ধরনের বানোয়াট প্রতিবেদন তৈরি করে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফাঁসানো হয়েছিল।

 

বিএনপি ধ্বংসে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ‘হীন উদ্দেশ্য’ ছিল বলেও অভিযোগ করেন হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বেই সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল, যাতে বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলা যায়।

 

এ ছাড়া তার নেতৃত্বেই ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের পুরো ব্যাংক খাত ধ্বংসের নীলনকশা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা।