Image description

বিশ্বকাপের রানার্সআপ হয়ে দেশে ফেরার পর আর্জেন্টিনা দলকে আনুষ্ঠানিক গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়নি। তা নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় উঠেছে প্রশ্ন। তবে দেশটির সরকারের দাবি খেলোয়াড়দের জন্য ছয় ধরনের উদ্‌যাপন পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসিরাই কোনো আয়োজনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

 

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম এলএন প্লাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিলেই জানান, জাতীয় সরকার, বুয়েনস এইরেস প্রদেশ ও নগর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সম্ভাব্য ছয়টি উদ্‌যাপনের পরিকল্পনা করেছিল। তবে ফাইনালে হারের কষ্টের কারণে খেলোয়াড়েরা কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্‌যাপন করতে চাননি।

 

মিলেই বলেন, বিশ্বকাপ জিততে না পারার হতাশা থেকেই দলটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

 

এর আগে আর্জেন্টিনা দল যেদিন সমর্থকদের সঙ্গে উদ্‌যাপন করতে চাইবে, সেদিন জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছিলেন মিলেই। খেলোয়াড়দের জন্য প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন কাসা রোসাদাও উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। তবে দলের পক্ষ থেকে উদ্‌যাপন না করার কথা জানানোর পর জাতীয় ছুটির পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়।

 

মিলেই আরও জানান, দলটি কাসা রোসাদায় গেলে নিজে সেখানে উপস্থিত থাকতেন না। আয়োজনটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তার মতে, মাঠে সাফল্য এনে দেন খেলোয়াড়েরা। তাই অর্জনের কৃতিত্ব ও উদ্‌যাপনও তাদেরই প্রাপ্য।

 

মেসিকে নিয়েও কথা বলেন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট। ফাইনালের হারের পর মেসি মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় নেই বলে মনে করেন তিনি। আর্জেন্টিনার ফুটবল এবং সমর্থকদের জন্য মেসি যা করেছেন, সেটির জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিলেই।

 

আনুষ্ঠানিক গণসংবর্ধনা না হলেও দেশে ফেরা দলের সদস্যদের সম্মান জানানো হয় এজেইজা বিমানবন্দরে। লালগালিচায় খেলোয়াড়দের স্বাগত জানান গ্রেনাডিয়ার রেজিমেন্টের সদস্যরা। সামরিক ব্যান্ডে বাজানো হয় আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সমর্থকগীতি ‘মুচাচোস’।

 

এরপর ছাদখোলা বাসে করে স্কালোনি ও খেলোয়াড়দের নিয়ে যাওয়া হয় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অনুশীলনকেন্দ্রে। বৃষ্টি ও ঠান্ডা উপেক্ষা করে রাস্তার পাশে জড়ো হওয়া অসংখ্য সমর্থক পতাকা, গান ও আতশবাজির মাধ্যমে দলকে স্বাগত জানান।