Image description

পৃথিবীতে কত কী ঘটে!

এই যেমন ছাগলের জন্যও নাকি বানানো হয়েছে একটি টাওয়ার!

শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর উইন্ডসরে সত্যিই এমন এক ব্যতিক্রমী স্থাপনা দাঁড়িয়ে আছে। ৩১ ফুট উঁচু ইটের এই টাওয়ারটি দূর থেকে যেন রূপকথার কোনো দুর্গ। কিন্তু এর বাসিন্দা মানুষ নয়, একদল সানেন জাতের ছাগল। অদ্ভুত এই নির্মাণশৈলী আর অভিনব ধারণার কারণে ‘টাওয়ার অব বা-গোট’ এখন স্থানীয় আকর্ষণ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।

‘টাওয়ার অব বা-গোট’ এখন স্থানীয় আকর্ষণ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।টাওয়ারটির নির্মাতা কৃষক দম্পতি ডেভ ও মার্সিয়া জনসন। প্রায় পাঁচ হাজার হাতে তৈরি ইট দিয়ে গড়া এই স্থাপনায় রয়েছে ২৭৬ ধাপের সর্পিল পথ। বাইরের ঘুরপথ বেয়ে ছাগলগুলো অনায়াসে ওপরে উঠে যায়, আর ভেতরের ছোট ছোট কক্ষে রাত কাটায়। তবে এই টাওয়ারের গল্প শুরু হয়েছিল আরও আগেই। নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ওয়াইনারিতে ছাগলের জন্য তৈরি একই ধরনের একটি টাওয়ারের ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হন ডেভ। সেই ছবিই তাঁকে নিজের খামারে এমন একটি টাওয়ার নির্মাণের স্বপ্ন দেখায়। মজার বিষয় হলো, তখন তাঁর খামারে একটি ছাগলও ছিল না! টাওয়ার তৈরি শেষ হওয়ার পরই তিনি ১১টি সানেন ছাগল কিনে আনেন।

পাহাড়ি স্বভাবের ছাগলের জন্য বিশেষ নকশা
প্রশ্ন জাগতেই পারে, ছাগলের জন্য এত আয়োজন কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের স্বভাবেই। সানেন ছাগলের আদি নিবাস সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চল। প্রকৃতিগতভাবেই তারা উঁচু জায়গায় উঠতে ভালোবাসে। পাহাড়ে বাস করার এই স্বভাব তাদের নিরাপদ থাকতে এবং চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করত। সমতল কৃষিজমিতে সেই সুযোগ না থাকায় জনসন দম্পতি ছাগলগুলোর জন্য কৃত্রিমভাবে এমন একটি উঁচু পরিবেশ তৈরি করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিবেশ প্রাণীদের মানসিক চাপ কমায়, একঘেয়েমি দূর করে এবং তাদের স্বাভাবিক আচরণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
টাওয়ার নির্মাণের সময়ও ঘটেছিল মজার এক ঘটনা। ছবির মাপ দেখে নির্মাণ করতে গিয়ে টাওয়ারটি পরিকল্পনার চেয়ে বড় হয়ে যায়। ফলে এটি অনিচ্ছাকৃতভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ছাগল টাওয়ারে পরিণত হয়। এমনকি অতিরিক্ত ইটও আনাতে হয়েছিল, যদিও শুরুতে উদ্দেশ্য ছিল বাড়ি তৈরির পর বেঁচে যাওয়া ইট ব্যবহার করা!

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিবেশ প্রাণীদের মানসিক চাপ কমায়।

আজ এই টাওয়ার শুধু ছাগলের আবাস নয়, বরং পর্যটকদেরও আকর্ষণ করে। দর্শনার্থীরা এসে ছাগলগুলোর টাওয়ারে ওঠানামা দেখেন, ছবি তোলেন, তাদের আদর করেন। একসময় নিছক শখ থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখন প্রাণীর কল্যাণ, সৃজনশীল কৃষি এবং গ্রামীণ পর্যটনের এক অনন্য উদাহরণ। প্রমাণ করে, একটু ভিন্নভাবে ভাবতে পারলেই সাধারণ একটি খামারও হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ।

সূত্র: অ্যাটলাস অবস্কিউরা, নাইনটি নাইন পারসেন্ট ইনভিসিবল