Image description

সরকারি নির্দেশনায় দেশের জাতীয় মহাসড়কে তিন চাকার ধীরগতির যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে চার লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এই আইনি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করছে না কেউই। চট্টগ্রাম সিটি গেট পার হয়ে উত্তর দিকে এগোলেই চোখে পড়ে উল্টো দৃশ্য—শুধু যে তিন চাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক মহাসড়কে অবাধে চলছে তা-ই নয়, এগুলো ছুটে চলেছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে উল্টো পথে।

মঙ্গলবার সকালে মহাসড়কের মিরসরাই অংশে দেখা গেছে, ট্রাফিক আইন ও গতিসীমার সংকেতকে উপেক্ষা করে কীভাবে এই ঝুঁকিপূর্ণ যানগুলো চার লেনের দ্রুতগতির লেন দখল করে রেখেছে। মহাসড়কে স্পষ্ট 'গতিসীমা ৬০ কিমি' সংকেতের সাইনবোর্ড টাঙানো থাকলেও, যেখানে দ্রুতগতির দূরপাল্লার বাস ও ভারী কাভার্ডভ্যান-ট্রাক নির্দিষ্ট গতিতে চলছে, ঠিক তার মুখোমুখি উল্টো লেন দিয়ে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসছে সবুজ রঙের সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

অ্যারো চিহ্নের উল্টো দিকেই চলছে যান

রাস্তায় তির চিহ্ন দিয়ে যেদিকে গাড়ি চলাচলের দিক নির্দেশ করা হয়েছে, ঠিক তার বিপরীতে মাঝরাস্তা দখল করে একাধিক তিন চাকার যান বিপরীত দিক থেকে আসছে। এমনকি মহাসড়কের যে লেনে গতিসীমা '৪০' লেখা রয়েছে, সেই লেনেও বড় লরি ও কনটেইনার মুভারের ঠিক সামনে অনায়াসে মুখোমুখি চলে আসছে এসব অটোরিকশা। বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ মোড়ে ওভারটেকিং বা নির্দিষ্ট যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধের ট্রাফিক সাইন থাকলেও, সাইনবোর্ডের নিচ দিয়েই নিয়ম ভেঙে চলছে এসব যান। যাত্রীবোঝাই অটোরিকশাগুলো মহাসড়কের সার্ভিস লেন ব্যবহার না করে মূল চার লেনের মাঝের লেন দিয়েই উল্টো দিকে চলাচল করছে।

গতির ব্যবধানেই বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই অংশে দূরপাল্লার যানগুলো নিয়মিত ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি গতিতে চলাচল করে। এই অবস্থায় বাঁক বা মোড়ের মুখে হঠাৎ উল্টো দিক থেকে কোনো ধীরগতির অটোরিকশা বা ইজিবাইক সামনে চলে এলে দূরপাল্লার ভারী যানবাহনের পক্ষে তাৎক্ষণিক ব্রেক কষা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে মুখোমুখি সংঘর্ষ ও প্রাণহানির মতো ঘটনা।

এই সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী চালক মোহাম্মদ শরীফ বলেছেন, ‘একটু দূরত্বের পথ বাঁচাতে, ইউ-টার্ন ঘুরে আসার ঝক্কি এড়াতে চালকেরা সরাসরি উল্টো পথ বেছে নিচ্ছেন। সিটি গেটের পর থেকে সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ অংশজুড়ে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।

প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে উল্টো পথে যান

মহাসড়কে চার চাকার দ্রুতগতির যানের পাশাপাশি দূরপাল্লার লরি ও কাভার্ডভ্যানের তীব্র চাপের মধ্যে দিনের আলোতে পুলিশ ও হাইওয়ে প্রশাসনের চোখের সামনেই কীভাবে এসব যান উল্টো পথে চলাচল করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীরা।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বললেন, ‘শুধু নামমাত্র অভিযান বা মাঝেমধ্যে মামলা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। হাইওয়ে পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার করা, উল্টো পথে আসা যানের চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং যেসব পয়েন্ট দিয়ে এসব অবৈধ যান মহাসড়কে প্রবেশ করছে, সেগুলোতে স্থায়ী ব্যারিকেড ও নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিন দিন মরণফাঁদে পরিণত হবে।’