Image description

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কিশোর জিহাদ মিয়া (১৫) হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা।

 

রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া মোড়ে গাছের গুঁড়ি ফেলে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

 

এর আগে, সকাল ৯টা থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে কুট্টাপাড়া মোড়ে এলাকাবাসী জড়ো হন এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

 

অবরোধের ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে কুমিল্লা-সিলেট এবং সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কেও। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী, চালক ও সাধারণ মানুষ।

 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সরাইল উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে দুপুরের দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। তবে মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বেলা ২টা বেজে যায়।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই উপজেলার কুট্টাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আজগর আলীর ছেলে জিহাদ মিয়াকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

 

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নিহত জিহাদের মা সারিন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই, তাদের ফাঁসি চাই। আমরা গরিব বলেই কি বিচার পেতে এত দেরি হচ্ছে?

 

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীদের যেন আইনের আওতায় আনা যায়, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।