ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। প্রথম ধাপে ১০০ বৈদ্যুতিক বাস চালাতে চায় বিআরটিসি। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের কাছে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার (১৯ জুলাই) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিসি শাখা থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে ১০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি বরাদ্দ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানোনো হয়েছে। দেশের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিআরটিসির বহরে বৈদ্যুতিক বাস সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে আধুনিক ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিআরটিসির বহরে বৈদ্যুতিক বাস সংযোজনকে জরুরি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, বৈদ্যুতিক বাস চালু হলে বায়ুদূষণ হ্রাস পাবে, যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয়ও কমে আসবে। এ লক্ষ্যেই প্রথম ধাপে আনুমানিক ১০০টি বৈদ্যুতিক বাস, ২৫টি চার্জিং স্টেশন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব বাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রুটের পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোর আন্তঃনগর রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সড়ক পরিবহন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিআরটিসির ১০০টি বৈদ্যুতিক বাস কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ৫০ কোটি টাকা, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ কিনতে ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০ কোটি টাকা, পরিবহন, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য ব্যয়ে ২৫ কোটি টাকা এবং ডিপোসহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা উন্নয়ন ও মেরামতে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।