Image description
 
ইদানিং জনাব আব্বাসি ভাইয়ের কিছু কথা, এবং হঠাৎ করে তার উপর বিষোদ্গার আমাকে ব্যথিত করেছে। বাংলাদেশে আলিম উলামাগণের ভূমিকা আগে খুব উজ্জ্বল ছিল। রাজনৈতিক হোক কিংবা সামাজিক, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হোক অথবা আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক নোংরামির বিরুদ্ধে হোক, হোক জুলুমের বিপরীতে আলিম উলামা ভালো ভূমিকা রাখতেন। এখনো রেখে চলেছেন। এই ধারা অব্যাহত রাখতে আলিম উলামাদের ঐক্য, তাদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা এবং একে ওপরের সাথে সহযোগিতা খুবই দরকার।
 
শায়খ আহমাদুল্লাহকে ইদানীং ইসলাম বিরোধী শক্তি ভালোই টার্গেট করেছে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তারা চেষ্টা করছে তার মত একজন গণমুখী ব্যক্তিত্বকে বিতর্কিত করতে। এই ক্ষেত্রে আলিম উলামার কোন বিরূপ মন্তব্য, অথবা মিথ্যা অপবাদ ইসলামের দৃষ্টিতে কাম্য নয়, দেশের লাখো মানুষ তার কাছ থেকে উপকার পাচ্ছে সেখানেও আঘাত আসতে পারে।
 
শায়খ আহমাদুল্লাহ আমার রক্তের সম্পর্কের কেউ নন। কিন্তু তার কর্মকাণ্ড ব্যপক হওয়ার প্রথম দিক থেকেই আমি অত্যন্ত আনন্দিত তার প্লান, সৃষ্টিশীলতা, এবং বহুমাত্রিক যোগ্যতা দেখে। আমার সুযোগ হয়েছিলো কোন একটা ব্যপারে তার ব্যংক স্টেটমেন্ট দেখার। আমি তাজ্জব হয়েছিলাম কোটি কোটি টাকা যার পায়ে চুমা খায়, তার নিজের অবস্থা এমন হয় কিভাবে?! যতটুকু দেখেছি দুনিয়াবি জীবনে তিনি অনেক কৃচ্ছ্রতা অবলম্বন করেন। আমি নিজে কত চেষ্টা করেছি তাকে কিছু হাদিয়া দিতে, কিন্তু তিনি অস্বীকার করেছেন। একবার তাকে হাত ধরে ভালো ডিজিটের একটা খাম ধরিয়ে দেই খুব বুদ্ধি শুদ্ধি করে। তিনি হাতে নিয়ে সেই টাকাটা দান করে যান সাতক্ষীরায় কোন ভাল কাজে। এমন পর্যায়ে আমিও হয়ত নিজকে আটকাতে পারতাম না।
 
কেউ কেউ তাকে আওয়ামীবান্ধব বলে খোটা দিচ্ছেন। জানিনা কিসের ভিত্তিতে। আওয়ামী আমলে তার উপর চলা নির্যাতনের ফিরিস্তি কম নয়। তবে শায়খ এইগুলো বেড়াননা, এতটুকু। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের কুশীলবদের অনেকের সাথে কথা বলে জেনেছি শায়খের আলোচনা ও চিন্তা দিয়ে তারা কত গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন। এবং তার প্রতি তাদের আজ অবধি পুষে রাখা প্রগাঢ় ভক্তি অনেক কিছুর প্রমাণ বহন করে।
 
হতে পারে শায়খ আহমাদুল্লাহ এই সব নেতিবাচক প্রচারণায় মন খারাপ করবেন। কিন্তু আমাদের দুয়া এবং তার প্রতি আমাদের ভালোবাসা নিশ্চয় আল্লাহ শুনছেন এবং দেখছেন। আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন।