ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিল হওয়া রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স আবার ফিরতে পারে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ত্রুটি সংশোধনের দাবি যাচাইয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের পর এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
শুক্রবার পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (হাসপাতাল) ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী বলেন, যে পর্যবেক্ষণগুলোর ভিত্তিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছিল, সেগুলো নিয়ে কর্তৃপক্ষকে আগেই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেসব বিষয়ে কাজ করেছে এবং পরে আপিল করেছে। এখন আপিল বিবেচনাকারীরা বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিদর্শনের প্রতিবেদন জমা দেবে।
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী, সচিব ও প্রধানমন্ত্রী—সবাই স্বাস্থ্য খাত নিয়ে চিন্তিত। আমরা সবাই ইতিবাচকভাবে চিন্তা করছি। যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো আমাদের সবারই কষ্টের বিষয়। আমরা সব সময় ইতিবাচকভাবে চিন্তা করে কাজ করার চেষ্টা করছি। পুরো বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিমের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এরপর পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেসব দৃশ্যমান পরিবর্তন করেছে, পরিদর্শনে সেগুলো দেখা গেছে। তবে হাসপাতালের আইসিইউসহ বিভিন্ন অবকাঠামোয় কী ধরনের সংস্কার করা হয়েছে, তা কর্তৃপক্ষ সোমবার বিস্তারিত দেখাতে রাজি হয়নি।
এর আগে সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ত্রুটিগুলো সংশোধনের দাবি করে পুনরায় পরিদর্শনের আবেদন করেছে। সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শন শেষে পরিস্থিতি সন্তোষজনক মনে করলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলে সমালোচনার মুখে পড়ত। তাই ঘটনার পরই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের আইসিইউসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত ত্রুটি দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেসব ত্রুটি সংস্কারের কাজ করছে বলে জানিয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন করে পরিদর্শনের আবেদন করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন। পরিদর্শনে সন্তোষজনক অগ্রগতি পাওয়া গেলে সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে এ ঘটনায় একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালত ও আইন অনুযায়ী হবে।
এর আগে, গত ২৭ মে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ৭ জুন বিকেল পাঁচটার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
পরে ৭ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কারণ দর্শানোর জবাব দেওয়ার সময় বাড়ানোর আবেদন করে। এরপর সময়সীমা ৯ জুন বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ৯ জুন হাসপাতালের পক্ষ থেকে দেওয়া জবাব ও ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
তবে ওই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার আইনি সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপিল করে।