Image description

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাংলাদেশে নতুন এক উৎসবের জোয়ার। তরুণ থেকে প্রবীণ সবাই মেতে ওঠেন এই উন্মাদনায়। প্রায় মাসব্যাপী চলা আসরের শুরু থেকেই প্রিয় দলের পক্ষে-বিপক্ষে চলে তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনা-সমালোচনা। অবশেষে খেলাপ্রেমী বাঙালির সেই প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হতে যাচ্ছে। আগামী রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ।

 

ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে শিরোপানির্ধারণী মঞ্চের দুই দল। গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাতের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই জয়ে বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরাও মেতেছেন নতুন আনন্দে। তাদের প্রত্যাশা টানা দ্বিতীয়বারও চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফি ঘরে তুলবেন লিওনেল মেসিরা।

 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়াযজ্ঞের ফাইনাল ম্যাচটি সরাসরি উপভোগ করতে মুখিয়ে আছেন হাজারো মানুষ। রাজধানী ঢাকায় চাইলেই বিনামূল্যে বড় পর্দায় উপভোগ করা যাবে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের এই ঐতিহাসিক শিরোপার লড়াই। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মাঠ, হোটেল ও কনভেনশন সেন্টারে আয়োজন করা হয়েছে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা; যার অনেকগুলোতেই প্রবেশ সম্পূর্ণ ফ্রি।

 

টিএসসি

২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্র (টিএসসি) রাজধানীতে বড় পর্দায় খেলা দেখার অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এবারও টিএসসিতে আয়োজিত উন্মুক্ত স্ক্রিনিংয়ের স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ‘কোকা-কোলা বাংলাদেশ’। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই এখানে হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে একত্র হয়েছেন, যা উৎসবমুখর পরিবেশে ফুটবলের উন্মাদনায় যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা।

 

মহসিন হল

বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হলের পাশাপাশি হাজী মুহম্মদ মহসীন হলে আয়োজন করা হয়েছে এক প্রাণবন্ত ‘ওয়াচ পার্টি’র, যার স্পন্সরও কোকা-কোলা বাংলাদেশ। ম্যাচ উপভোগের পাশাপাশি দর্শকরা এখানে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া থাকছে নানা ধরনের ইন্টারঅ্যাকটিভ গেমস, অ্যাক্টিভিটি ও আকর্ষণীয় ট্রফি-মার্চেন্ডাইজ জয়ের সুযোগ।

 

এই আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় জামাল ভূঁইয়া এবং শেখ মোরসালিন। ফুটবলপ্রেমীরা তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার পাশাপাশি অন্য সমর্থকদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে স্টেডিয়ামের আবহেই ফাইনালের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে পারবেন।

 

জগন্নাথ হল ও হলপাড়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও মহসিন হল ছাড়াও জগন্নাথ হল এবং পুরো ‘হলপাড়া’ এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনামূল্যে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনাল ম্যাচটি দেখা যাবে এসব স্থানে। বিশ্বকাপ ফাইনালের উন্মাদনা ছড়িয়ে দিতে এই আয়োজনে কোমল পানীয় পার্টনার হিসেবে রয়েছে কোকা-কোলা বাংলাদেশ।

 

মিরপুরের সিটি ক্লাব মাঠ ও ডিওএইচএস সেন্ট্রাল ফিল্ড

রাজধানীর মিরপুর পল্লবীর ‘মিরপুর সিটি ক্লাব মাঠ’ এবং মিরপুর ডিওএইচএসের কেন্দ্রীয় মাঠেও বিশাল পর্দায় সরাসরি দেখানো হবে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যেকোনো দর্শনার্থী এসব স্থানে গিয়ে উপভোগ করতে পারবেন মেসি ও ইয়ামালদের ট্রফি জয়ের দ্বৈরথ।

 

বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্ক

খোলা আকাশের নিচে উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্বকাপ ফাইনাল উপভোগ করতে চাইলে চলে যেতে পারেন বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে। সেখানে সুবিশাল পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ।

 

আয়োজনটির বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জনপ্রিয় শিল্পী সঞ্জয়ের সরাসরি গান পরিবেশনা। তাঁর ‘Siir Siir’ গানটি ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল অ্যালবামে স্থান পেয়েছে, যা ফুটবলের উন্মাদনার সঙ্গে যোগ করবে সুরের অন্যরকম আমেজ। এ ছাড়া নানা ধরনের ‘ফ্যান এনগেজমেন্ট’ অ্যাক্টিভিটি এবং উৎসব মুখরিত দর্শকসমাগম এটিকে রাজধানীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় ভেন্যুতে পরিণত করবে।

 

বিভিন্ন অভিজাত হোটেল ও কনভেনশন হল

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকা, গুলশানের দ্য আলট্রাস ফেস্টিভ্যাল, লেকশোর গ্র্যান্ড (গুলশান-২), হোটেল আমারি ঢাকা, লে মেরিডিয়ান ও ক্রাউন প্লাজাসহ বেশ কিছু পাঁচতারকা হোটেলে রয়েছে বড় পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ দেখার সুব্যবস্থা।

 

এ ছাড়া গুলশান-১-এ পুলিশ প্লাজার পাশে অবস্থিত ‘এলিট কনভেনশন হল’, তেজগাঁওয়ের ‘আর্টিসান ওয়াচ পার্টি’ এবং মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ের পাশে অবস্থিত ‘আইসিসিএল কনভেনশন হলে’ রয়েছে বড় পর্দায় সরাসরি খেলা দেখানোর আয়োজন। তবে এসব বাণিজ্যিক ভেন্যুতে বসে খেলা উপভোগ করতে টিকিট কেটে নির্দিষ্ট ফি গুনতে হবে।