Image description

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় পে স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত সচিব কমিটি আজ বুধবার (১৫ জুলাই) আবার বৈঠকে বসছে। বহুল আলোচিত এ বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামোর সম্ভাব্য রূপরেখা, এর আর্থিক প্রভাব এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

দীর্ঘ এক দশক ধরে ২০১৫ সালের পে স্কেল কার্যকর থাকায় নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, নতুন পে স্কেল নির্ধারণে তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো—ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির প্রভাব, বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বেতনবৈষম্য এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা।

গত কয়েক বছরে খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এ কারণে বিদ্যমান বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, পুরো বেতনকাঠামোকে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বাস্তবসম্মত করা, পদোন্নতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদলও নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আইএমএফকে জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে একবারে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি না হয়।

আলোচনায় আইএমএফ জানতে চেয়েছে, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে সরকারের ব্যয় কতটা বাড়বে এবং সেই অতিরিক্ত ব্যয় কীভাবে সামাল দেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক আলোচনায় আইএমএফ বাংলাদেশকে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, স্থায়ী রাজস্বভিত্তি শক্তিশালী না করে বড় ধরনের ব্যয় বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তারা ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পক্ষেও মত দিয়েছে।