পূর্বের ঘটনার জেরে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রায়হানকে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আল মামুনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রিকফিল্ড (ইটভাটা) নামে পরিচিত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে মামুন ও তার কয়েকজন সহযোগী মিলে তাকে তুলে নিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে ইটভাটা এলাকার দিকে নিয়ে যান। এ সময় তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
লিখিত অভিযোগপত্রে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বসে থাকা অবস্থায় আল মামুন ও তার ৫-৬ জন সহযোগী তাকে পরিচয় নেওয়ার কথা বলে ডেকে ক্যাম্পাসের বাইরে ইটভাটা এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, হুমকি দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জানা যায়, গত ২৯ জুন ব্রাজিল-জাপান ফুটবল ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং ছাত্রদল নেতা মামুনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা পরে দুই পক্ষে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই ঘটনায় রায়হান সংশ্লিষ্ট ছিল বলে সন্দেহ করতেন ছাত্রদল নেতা আল মামুন। ওই ঘটনার সূত্র ধরেই তাকে হুমকি দিয়ে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার মোবাইল ফোন নিয়ে তল্লাশি করা এবং ওইদিনের ঘটনার সঙ্গে তাকে সম্পৃক্ত প্রমাণের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা এবং জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করা হয় বলে জানান ভুক্তভোগী।
রায়হান আরও বলেন, ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মামুনসহ ৫ থেকে ৬ জন আমাকে ডেকে পরিচয় নেয়ার পর জোরপূর্বক ইটভাটার দিকে নিয়ে যায়, যা ক্যাম্পাসের বাইরে। ইটভাটায় নেয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লুইজ গেটের ওখানে গিয়ে একজনকে ফোন দিয়ে বলে জানিস কারে ফোন দিলাম? উনিই আবার বললেন হাবিব ভাইকে ফোন দিয়েছিলাম।
পরে আমাকে জোরপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে তোরা সেদিন কেন মারামারি করছিলি, কে লিড দিছে তোদের? এটা বলে এবং জোরপূর্বক আমার স্টেটমেন্ট নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে আমি ভয়ে ফাহিম ভাইয়ের নাম বলি। কেননা আমাকে হুমকি দিয়ে বলছে ‘এখানে যদি পুঁতে ফেলি কেউ জানবে না, তোর ছাত্রত্ব বাতিল করা হবে।’ তারা আমাকে শারীরিকভাবে মারধর করেছে। আমার গালে চড় মেরেছে। পরবর্তীতে আমাকে বলে তুই এখন চলে যা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আল মামুন বলেন, গত ৩০ জুন আমাকে স্টেশনে কয়েকজন মিলে মারধর করে। সেখানে রায়হানও ছিল। আমিসহ কয়েকজন আজ রায়হানকে সেন্ট্রাল ফিল্ডের ওখানে দেখি এবং তাকে ওইদিনের ঘটনার জন্য জিজ্ঞেস করি মাত্র। তবে তাকে মারধর বা হুমকি-ধামকির বিষয়টি মিথ্যা। এ ছাড়া জোরপূর্বক ভিডিও করার যে অভিযোগ করেছে সেটাও মিথ্যা। তাকে শুধু ওই বিষয়ে জিজ্ঞেস করার পর চলে যেতে বলি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, সে আমাকে ফোনে বিষয়টি জানিয়েছে। অভিযোগপত্র দিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ রাত ৯টার দিকে তাকে দেখা করতে বলেছি।