কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার (২০২৫) আংশিক ফলাফল ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়ার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনা তদন্তে করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র বলছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েস। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ডিপিইর তার অবহেলার কারণে ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার বৃত্তি পরীক্ষার ফল নির্ধারিত সময়ের আগেই ওয়েবসাইটে দেখা যায়। এতে ফলাফল সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয় ফল প্রকাশের গোপনীয়তা ও তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা।
গতকাল বুধবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছিল। ফল প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েব লিংক তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারকে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের আগে কোনো অবস্থাতেই যেন ফলাফল লাইভ সার্ভার বা ওয়েব পোর্টালে আপলোড না করা হয়, সে বিষয়ে তাকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশনা অমান্য করে আজ সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল সংশ্লিষ্ট লিংকে আপলোড করা হয়। লিংকগুলো সচল হওয়ার পর সাধারণ ব্যবহারকারী ও অভিভাবকেরা ফলাফল ডাউনলোড করতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ফলাফল সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পরিচালকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাইভ সার্ভারে লিংক তৈরি ও ফলাফল আপলোডের ক্ষেত্রে যে তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা প্রয়োজন ছিল, মো. মেহতাব কায়েস তা মানেননি। এই নিরাপত্তা ত্রুটির কারণেই বিতর্কিত আনুষ্ঠানিক প্রকাশের আগেই ফলাফল সাধারণ মানুষের নাগালে চলে যায়।
এ ঘটনায় আজ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীর সই করা চিঠিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, পুরো ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগ পৃথক অফিস আদেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত আদেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. মিরাজুল ইসলাম উকিলকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন উপবৃত্তি বিভাগের শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিয়াউল কবির সুমন এবং সদস্যসচিব হিসেবে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২) রোকসানা হায়দার।
অফিস আদেশে তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।