দক্ষিণ আফ্রিকায় জোহানেসবার্গ ও পোর্ট এলিজাবেথ শহরে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই দিনে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীকে হত্যা করা হয়েছে। দুজনেরই বাড়ি নোয়াখালীতে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর নিহতের স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম।
গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় সময় আনুমানিক বেলা তিনটার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারান বেলাল হোসেন সুমন (৩৪) নামের এক প্রবাসী। নিহত সুমন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহাজন বাড়ির মৃত আবদুল ওয়াদুদের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন সুমন। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুর সংবাদে মিরওয়ারিশপুরের গ্রামের বাড়িতে কান্নার রোল পড়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় দেশটির পোর্ট এলিজাবেথ শহরে নিজ বাসার সামনে পৌঁছামাত্রই ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ইয়াছিন আরাফাত (৩৮) নামের আরেক প্রবাসী নিহত হয়েছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা মাত্র ৫ বছরের শিশুকন্যা ফারহানাও গুলিবিদ্ধ হয়। বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলেই স্থানীয়ভাবে নিহত আরাফাতের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত ইয়াছিন আরাফাত নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চনপুর গ্রামের মো. সুজায়েত উল্যার ছেলে। দীর্ঘ ১৫ বছরের কঠোর পরিশ্রমে তিনি সেখানে নিজের একটি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু এক মুহূর্তের গুলিতে স্তব্ধ হয়ে গেল তাঁর সব স্বপ্ন।
পরপর দুই প্রবাসীর এমন অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে নোয়াখালীর দুই গ্রামে এখন শুধুই কান্নার শব্দ। কোনো সান্ত্বনাই থামাতে পারছে না পরিবারগুলোর আহাজারি।
নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, বাংলাদেশ সরকার যেন কূটনৈতিকভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রশাসনের ওপর জোর চাপ সৃষ্টি করে। একই সাথে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর আকুতি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ একালাবাসী।