Image description

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় এক শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীতে চুবিয়ে হত্যাকাণ্ডের ২৫ দিনের মধ্যেই বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এতে তিন তরুণের মৃত্যুদণ্ড ও এক কিশোরকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পৃথক আদালত থেকে এ রায় দেয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকারের আদালতে আসামি আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১) ও মো. সাঈম মিয়ার (১৯) উপস্থিতি রায় ঘোষণা করা হয়। তাদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়। এতে রাষ্ট্রপক্ষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী এবং আসামি পক্ষে ছিলেন মকবুল হোসেন সরকার মামলা পরিচালনা করেন।

অন্যদিকে, এই মামলার অপর অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি স্কুলছাত্রের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক এম এল বি মেছবাহ উদ্দিন আহমেদের আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, ১৪ জুন বিকেলে নিজ বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছর বয়সি শিশুটি। সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের কংস নদের নদীর তলদেশে শিশুটির মরদেহ পুঁতে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায়। রাতে দাফনের জন্য মরদেহের গোসল করানোর সময় তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখতে পান স্বজনেরা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠায়।

পরদিন ১৫ জুন রাতে শিশুটির বাবা ধোবাউড়া থানায় দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। এতে নাম উল্লিখিত সন্দেহভাজন চার তরুণকে গ্রেপ্তারের পর ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার আদালতে তোলা হয়। সেখানে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামিরা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২৩ জুন চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মাথায় রায়ের দিল আদালত। রাষ্ট্র পক্ষে ১৯ জন ও আসামি পক্ষে চারজন সাক্ষ্য দেয়।