দেশের বাইরে প্রবাসীদের ভোটগ্রহণ নিশ্চিতকরণ ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আইসটির ব্যবহার বৃদ্ধিসহ উন্নয়নমূলক তিনটি প্রকল্প চলমান ছিল নির্বাচন কমিশনের। তবে এসব প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ করতে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি। এতে ফেরত যাচ্ছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ‘দেশের বাইরে ভোটদান সিস্টেম উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন’ প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় ফেরত যাচ্ছে ১০ কোটি ৬৯ লাখ ৪৮ হাজার ৮৩৮ টাকা।
আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস প্রকল্প (২য় পর্যায়)। প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। এ প্রকল্প থেকেও ফেরত যাচ্ছে ৩৭৮ কোটি ৯ লাখ ১৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
এছাড়া, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আইসিটি ব্যবহারে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। এ প্রকল্প থেকে ৩৮ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও এসব প্রকল্পের দায়ত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘কেন তারা টাকা খরচ করতে পারেনি সেটি আমাদের এখন জানার কথা নয়। যখন প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাবে তখন আমরা জানতে জানতে চাইব।’
এদিকে, অর্থ খরচ করতে না পারায় বিভিন্ন সময় নিএন্ডএজির চিফ একাউন্টস ও ফাইন্যান্স অফিসারে কাছে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত ৩০ জুনের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অব্যয়িত অর্থ আদিষ্ট হয়ে সমর্পণের লক্ষ্যে ‘উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের অর্থ অবমুক্তি ও ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৮’ এর নির্দেশনা মোতাবেক বার্ষিক রিকনসিলিয়েশন প্রতিবেদন পূরণ করে প্রেরণ করা হলো।
এ প্রসঙ্গে সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল-রশীদ আগামীর সময়কে বললেন, ‘অবশ্যই এটাকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া উচিত নয়। যখন এডিপিতে অর্থ বরাদ্দ করা হয় সেটি সময়মতো ও নিয়ম মেনে খরচ করতে হবে। এটিই নিয়ম। কিন্তু যদি তা না হয় তাহলে ওই সংস্থা জবাবদিহি করতে বাধ্য।’
‘নির্বাচন কমিশন কেন টাকা খরচে ব্যর্থ হলো সেটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে এরকম কাজ অন্যান্য প্রকল্পেও চলতে থাকবে। এটা দিনের পর দিন চলতে দেওয়া যায় না’, যোগ করেন তিনি।