Image description

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কক্সবাজারের ডুলাহাজরায় সরকারি হিসাবে ৭ লাখ গাছ রোপণের তথ্য থাকলেও নিজের অনুসন্ধানে সেখানে প্রকৃতপক্ষে প্রায় ২ লাখ গাছের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ও ভেরি আনফরচুনেট বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১০টায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই উদ্যোগগুলো যদি আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে অবশ্যই বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন করতে ইনশাআল্লাহ সক্ষম হব। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি রয়েছে। তবে শুধু ইচ্ছেমতো গাছ লাগালেই সেই লক্ষ্য অর্জন হবে না ‘ 

তিনি বলেন, কোন পরিবেশে, কোন মাটিতে, কী ধরনের আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ লাগানো প্রয়োজন, সে বিষয়ে আমাদের ধারণা থাকতে হবে। সেই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই গাছ রোপণ করতে হবে। ৯০-এর দশকে দেশে ব্যাপকভাবে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছ লাগানো হতো। পরে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রচারণার মাধ্যমে জানা যায়, দ্রুত বেড়ে ওঠা এবং কিছু অর্থনৈতিক মূল্য থাকলেও পরিবেশের জন্য এ দুটি গাছ ক্ষতিকর। যে গাছগুলো আমাদের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, সেগুলো অবশ্যই পরিহার করা উচিত। সেই গাছগুলো রোপণে উৎসাহ দেওয়া উচিত নয়।’

এর পরিবর্তে দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঔষধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয় বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা খুবই প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী হয়ে ডুলাহাজরা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের সময় কয়েক লাখ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সেসব গাছের পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি হিসাব-নিকাশে বলা হয়েছে সেখানে ৭ লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। টু বি অনেস্ট, আমি কয়েক সপ্তাহ আগে সংশ্লিষ্টদের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিলাম কোথায় কোথায় ৭ লাখ গাছ লাগানো হয়েছে তা দেখতে। পরে আমি নিজে বিষয়টি যাচাই করেছি। দেখেছি, একচুয়ালি সেখানে ৭ লাখ গাছ নেই। হার্ডলি দুই লাখের মতো গাছ হবে। এটি খুব দুঃখজনক, ভেরি আনফরচুনেট। এ ধরনের বিষয়ে আরও বেশি নজর দেওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন ‘

বৃক্ষরোপণই শেষ লক্ষ্য নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বন এমন হতে হবে যেখানে পশুপাখি, বিভিন্ন প্রাণী ও কীটপতঙ্গ নিরাপদ আবাসস্থল এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য পাবে। আমরা অনেক গাছ কেটে ফেলার কারণে অনেক পোকামাকড় ও বিভিন্ন প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এটিও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। গাছপালা, প্রাণী, সকল জীব, মাটি, পানি, বায়ুসহ সমগ্র পরিবেশ যেন স্বাভাবিকভাবে সহাবস্থান করতে পারে, সেই ধরনের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু গাছ লাগাবো বা শুধু প্লাস্টিক সরাবো বিষয়টি এমন নয়। অনেকগুলো বিষয় একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে। বর্তমান সরকার পরিবেশ রক্ষায় সেই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই কাজ করছে।’