দেশের ছয় বিভাগের অধিকাংশ স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি জেলার নিচু এলাকায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে আবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পাহাড়ধসে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে পার্বত্য জেলাগুলোর অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। রেল লাইন পানিতে ডুবে যাওয়ায় কক্সবাজারের সঙ্গে রেল যোগাযোগও মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই বন্ধ আছে।
কক্সবাজারে ৮ জনের মৃত্যু
কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানার ওপর পড়ে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ১৩ শিশুশিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) বেলা ২টার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকের খাদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে সাত থেকে ১৫ বছর বয়সী মেয়েশিশুরা পড়ছিল। ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে এবং সিসিসিএমের স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেছেন কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাম্প-৫ এলাকা থেকে আট জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চার জন ঘটনাস্থলেই এবং অপর চার জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ১৩ শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের ক্যাম্প-৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এবং ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুরো উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেছেন আরআরআরসির কর্মকর্তারা।
এদিকে, ভারী বর্ষণে প্লাবিত হচ্ছে জেলা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিম্নাঞ্চল-সমতলও। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাখো মানুষ উৎকণ্ঠায় আছে। ঘর তৈরি ও মাটি ভরাটের জন্য নির্বিচারে পাহাড় কাটা ও জ্বালানির চাহিদা পূরণে বনের গাছ সাবাড়ের ফলে ক্ষয়ে যাওয়া বনভূমি অতিবর্ষণে ধসের মুখে পড়েছে।
চট্টগ্রামে দুই দিনে ৪ জনের মৃত্যু
চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস ও দেয়ালধসে দুই শিশুসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পাহাড়ধস ও দেয়ালধসে দুজন এবং বুধবার (৮ জুলাই) পাহাড়ধসে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নগরের ২৬টি পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব পাহাড়ের মধ্যে ১৬টি সরকারি এবং ১০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন। এর মধ্যে সরকারি ১৬টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে ছয় হাজার ১৭৫টি পরিবার এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড়ে বসবাস করছে ৩৮৩টি পরিবার। প্রতি পরিবারে চার থেকে পাঁচ জন সদস্য থাকলেও পাহাড়ে বসবাসকারী বাসিন্দার সংখ্যা হবে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার।
তবে স্থানীয় হিসাবে পাহাড় এবং পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীর সংখ্যা লক্ষাধিক। পাহাড়ে বসবাস করলেও অধিকাংশ পরিবারে রয়েছে বিদ্যুৎ ও পানি। ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদফতরের লোকজন।
নগরের বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা মহিন উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বায়েজিদে একের পর এক পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ের পাদদেশে বিদ্যুৎ-পানিসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে লোকজন বসবাস করলেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। বর্ষা এলেই তাদের লোক দেখানো তৎপরতা বাড়ে।’
মঙ্গলবার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে রেনু আক্তার (৫৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার ইছাখালী গুচ্ছগ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হন। একই দিন দুপুরে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন রহমান নগর আবাসিক এলাকার বি-ব্লকে দেয়াল ধসে শফিকুর রহমান (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বুধবার পৃথক স্থানে পাহাড় ধসে দুই শিশু মারা গেছে। সকাল ৯টায় জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পাহাড় ধসে মাটিচাপা পড়ে ১০ মাস বয়সী মো. আশরাফুল ইসলাম তানভীর নামে এক শিশু মারা গেছে। মৃত তানভীর জঙ্গল সলিমপুরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহিন উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় মাটি চাপা পড়ে শিশুটির পরিবারের আরও কয়েকজন আহত হন। একই দিন দুপুরে নগরের পাঁচলাইশ থানার চশমা হিল এলাকায় পাহাড় ধসে সুমাইয়া আক্তার (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস ও দেয়াল ধসে দুই শিশুসহ চার জনের মৃত্যু
বায়েজিদ বোস্তামী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে এক শিশু মারা গেছে। দুর্ঘটনার সময় বাবা-মা বের হতে পারলেও শিশুটি বের হতে পারেনি। ফলে পাহাড়ের ধসেপড়া মাটি ঘরের ওপর পড়লে সেটি ভেঙে মাটি চাপা পড়ে সে। পরে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক ওই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।’
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘পাহাড়ের প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, এসিল্যান্ড এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২৬টি পাহাড়কে পাঁচটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করছে। প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাঠে কাজ করছেন।’
বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসে সড়কের ওপর পড়ে বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার বিকাল ৫টার দিকে পৌর শহরের আমতলী পাড়া এলাকায় পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে বান্দরবানের প্রধান সড়কের ওপর। এতে সারাদেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। একই দিন বিকাল থেকে অব্যাহত বৃষ্টিতে থানচি উপজেলার বলিপাড়া বাগানপাড়া এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান-থানচি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে থানচি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া পাহাড়ধস ও সড়ক প্লাবিত হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম-বান্দরবান এবং বান্দরবান-কক্সবাজার সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রী, পর্যটক ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালক-শ্রমিকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মী, রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার ও সড়ক পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
পাহাড়ধসে সড়কের ওপর পড়ে বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
স্থানীয় লোকজন জানান, বৃষ্টি থামলেই পাহাড় ধসে পড়া মাটি অপসারণ এবং প্লাবিত সড়ক থেকে পানি নেমে গেলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।
রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের শঙ্কা, ৩৯ এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ
ভারী বর্ষণের ফলে রাঙামাটির পাহাড়ি উপজেলা কাউখালীতে বড় ধরনের পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং ঘাগড়া ছড়া তীরবর্তী ঘরগুলোতে পানি উঠতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাতে মাইকিং করার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুরোধ জানাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
বুধবার সকাল থেকে উপজেলার চারটি ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা গেছে। এরই মধ্যে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৩৯টি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজ কুমার শীল বলেন, ঘাগড়া ইউনিয়নের আরটিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে সোমবার রাত থেকেই ১৩টি পরিবারের ৩৫ জন সদস্য অবস্থান করছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকেল নাগাদ আশ্রয়কেন্দ্রে অর্ধশতাধিক পরিবার আশ্রয় নিতে পারে।
ভারী বর্ষণের ফলে রাঙামাটির পাহাড়ি উপজেলা কাউখালীতে বড় ধরনের পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজীব হোসেন বলেন, সোমবার সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। উপজেলার ৩৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ যেন নিরাপদে থাকেন, সেজন্য প্রশাসন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দারা নিজেরা স্বেচ্ছায় সরে না আসলে জানমালের সুরক্ষায় আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হবে। পাহাড়ধসের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
২০১৭ সালের জুনে কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণের ফলে কাউখালীতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে ২১ জন নিহত হয়েছিলেন এবং পুরো রাঙামাটি জেলাজুড়ে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।
টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পাহাড়ধসের শঙ্কা
টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির নয় উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। জেলার চেংগী, ফেনী ও মাইনী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত ৪০টিরও বেশি এলাকায় পানি উঠেছে। টানা বৃষ্টি হলে ঘরবাড়িতে পানি ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
দিঘীনালার মেরুং, কবাখালী, পাবলাখালী, খাগড়াছড়ির মুসলিমপাড়া, গঞ্জপাড়া, কালাডেবা, গোলাবাড়ি, রামগড়ের কলসির মুখ, কালাডেবা, সোনাইফুলসহ বিভিন্ন উপজেলার ৪০টি নিম্নাঞ্চলে পানি উঠেছে। অনেক এলাকার লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে উঠেছে। বৃষ্টি না হলে কয়েক ঘণ্টায় পানি নেমে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে দুর্ভোগ বাড়বে।
অন্যদিকে, পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে— এমন শঙ্কায় অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। খাগড়াছড়ি সদরের সবুজবাগ, কুমিল্লাটিলা, শালবন, দিঘীনালা উপজেলার পশ্চিম কাঠালতলী, মধ্য বোয়ালখালী, রশিক নগর, মাটিরাঙা উপজেলার আলুটিলা, নতুনপাড়া, নবীনগর, কাঁঠালতলী, রামগড় উপজেলার বলিটিলা, লাচারী পাড়া, কালাডেবা, মানিকছড়ি উপজেলার মুসলিমপাড়া, গচ্ছাবিল, কুমারী, গুইমারা এলাকার বড়পিলাক, হাফছড়ি, ডাক্তার টিলাসহ পুরো জেলায় প্রায় ৫০০ পরিবার রয়েছে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে।
টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির নয় উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে
খাগড়াছড়ি সদরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটলও দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি হলে পাহাড়ধস হতে পারে। এ নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।’
জরিনা বেগম নামের শালবন এলাকার আরেক বাসিন্দা জানান, বর্ষা এলেই পাহাড়ধসের আতঙ্ক ফিরে আসে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক পরিবারের পক্ষে অন্যত্র সরে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে দুশ্চিন্তাও।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা পংকজ বড়ুয়া বলেন, ‘টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট দফতর প্রস্তুত রয়েছে।’
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাসের প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।’
বাংলা ট্রিবিউন