Image description

কোচিং স্টাফের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে সেনেগাল জাতীয় দল থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার পাপে গেয়ে। বর্তমান ম্যানেজমেন্টের অধীনে তিনি আর দেশের হয়ে খেলবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

 

২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলারের এমন নাটকীয় সিদ্ধান্তটি এলো চলমান বিশ্বকাপে শেষ-৩২ এর ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে নাটকীয়ভাবে হেরে সেনেগালের বিদায়ের পর। পাপে থিয়াওয়ের অধীনে খেলা সেনেগাল ম্যাচটিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি।

 

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে হাবিব দিয়ারা এবং ইসমাইলা সারের গোলে যোগ্য দল হিসেবেই এগিয়ে গিয়েছিল সেনেগাল। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রোমেলু লুকাকু ও ইউরি তিলেমান্সের গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম, যার ফলে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।

এরপর ১২৫তম মিনিটে বেলজিয়ামের পক্ষে একটি বিতর্কিত পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করে তিলেমান্স সেনেগালকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেন।

 

স্প্যানিশ লা লিগার ক্লাব ভিয়ারিয়ালের হয়ে খেলা পাপে গেয়ে এই ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন। তবে ৬৬ মিনিটে তাকে তুলে নিয়ে লামিন কামারাকে মাঠে নামানো হয়।

বিশ্বকাপ থেকে এমন বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে পাপে গেয়ে লেখেন, ‘টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া নিয়ে কথা বলতে আমি আবারও ফিরে আসব... তবে আজ আমি ঘোষণা করছি যে, যতদিন এই কোচিং স্টাফ দায়িত্বে থাকবে, ততদিন আমি জাতীয় দল থেকে বিরতি নিচ্ছি।’

সেনেগালের হয়ে ৪৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই মিডফিল্ডার চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরাকের বিপক্ষে জয়ে দুটি গোলও করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে সেনেগালের প্রধান কোচের দায়িত্বে আছেন পাপে থিয়াও। তবে তার কোচিং ক্যারিয়ার শুরু থেকেই নানা বিতর্কে ঘেরা। বিশেষ করে গত জানুয়ারি মাসে ২০২৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের (আফকন) ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে এক চরম বিতর্কের জন্ম দেন তিনি। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে মরক্কো পেনাল্টি পেলে প্রতিবাদ হিসেবে পাপে থিয়াও তার পুরো দলকে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যান।

প্রায় ১৭ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর খেলোয়াড়রা মাঠে ফেরেন। মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজের পেনাল্টি শটটি সেনেগালের গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন এবং পরবর্তীতে এই পাপে গেয়ে-রই অতিরিক্ত সময়ের গোলে সেনেগাল জয়ী হয়।

তবে ম্যাচ মাঠে জিতলেও গত মার্চে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) সেনেগালের সেই মাঠ বর্জনের (ওয়াক-অফ) কারণে ফাইনালের ফলাফল বাতিল করে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে। 

ফলে শিরোপা হারাতে হয় সেনেগালকে। সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন অবশ্য এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত (সিএএস)-এ আপিল করেছে এবং তারা শিরোপাটি ফেরত পাওয়ার আশা ছাড়েনি।