ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গ্রেফতার হওয়ার এক দিনের ব্যবধানে মুক্তি মিলে শেখ হাসিনার সর্বশেষ মন্ত্রিসভার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রি ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দুইমাসের মাথায় ৬ অক্টোবর গুলশান থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি, ৭ অক্টোবরের পর দিন ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় তিনি আদালতের হাজতখানা থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন। সাবের হোসেন চৌধুরীর মুক্তির পর আলোচনা শুরু হয় ‘রিফাইন্ড’ বা পরিশোধিত আওয়ামী লীগ তৈরি হয়ে সামনে আসছে, আর এর নেতৃত্বে থাকবেন দুই চৌধুরী। একজন হচ্ছেন- সাবের হোসেন চৌধুরী ও অপরজন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর গঠিত নির্বাচিত সরকারের সময় গ্রেফতার হন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি ৭ এপ্রিল গ্রেফতার হওয়ার পর মুক্তি পান ১২ এপ্রিল। অর্থ্যাৎ মাত্র চারদিনের ব্যবধানে তিনিও মুক্তি পান। শিরীন শারমিন চৌধুরীর মুক্তির পর আবারও ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ লোকদের মুক্তি পাওয়ায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন, হয়তো পরিশোধিত আওয়ামী লীগ দৃশ্যপটে অচিরেই আসছে। আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা দুর্নীতিতে খুব একটা জড়ায়নি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, লুটপাট ও অর্থপাচার থেকে দূরে ছিলেন তারা চাচ্ছেন পরিবারতন্ত্র থেকে (শেষ পরিবার) বেরিয়ে ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগ কর্মী ও সমর্থকদের সামনে আসুক। কিন্তু সেটিও হচ্ছে বলে মনে হয় না। কারণ, ফ্যাসিস্ট খ্যাত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতৃত্ব ছাড়তে চাচ্ছেন না। তিনি তার দলীয় প্রধানের পদেই থাকতে চান।
তৃণমূল কী চায়, কীভাবে চায়?
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও যারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেননি তারা চাচ্ছে নতুন এক আওয়ামী লীগ, যাকে কেউ কেউ ‘রিফাইন্ড’ বা পরিশোধিত আওয়ামী লীগ বলে থাকেন। দলটির সমর্থকরা মনে করেন, চাঁদাবাজী, দুর্নীতি, অর্থলোপাট-পাচারসহ যারা শেখ হাসিনার সময়ে খুন-গুমসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে লিপ্ত ছিল তাদেরকে (তৃণমূল থেকে কেন্দ্র) আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সব সংগঠন থেকে বের করে দিতে হবে। কারণ, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে সব শ্রেণী পেশার মানুষ সচেতন, এরা কোনো দুর্নীতিবাজ বা লুটেরাদের পছন্দ করেন না। যারা জনগণের জন্য রাজনীতি করবেন, রাজনীতির মাঠ থেকে পয়সা ইনকামের ধান্ধা থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন এমন ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকলে সমর্থকরা সাহস নিয়ে সক্রিয় হতে পারেন। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার পরিবারের দুর্নীতিবাজ ও কমিশনভোগী, সন্ত্রাস ও লুটেরারা আবারও নেতৃত্বে আসলে সাধারণ মানুষের সমর্থন পাবে না দলটি, এমনটাই মনে করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের যেসব নেতাদের হাত ‘সাধারণ নিরীহ মানুষের রক্তে রঞ্জিত তারা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন না। এরা কখনো রাজনীতিক ছিলেন না, ভবিষ্যতে তারা মানুষের কল্যাণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারবেন না। যারা খুন ও গুমের সঙ্গে জড়িত, যারা দেশের ব্যাংকখাতসহ অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে তারা কখনোই দেশ প্রেমিক ছিলেন না। তৃণমূল যুবলীগ নেতা হাবিবুল্লাহ হাবিবের সঙ্গে কথা হয় শীর্ষনিউজের এ প্রতিবেদকের, তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে শেখ হাসিনার আমলে, যুবলীগ নেতা হওয়া সত্ত্বেও নিজে গ্রামে যেতে পারিনি। হামলা-মামলার শিকার হয়েছি, ওই সময়ের প্রভাবশালী ও দাপুটেরা এখন আর কেউ প্রকাশ্যে নেই। তারা এখন জনরোষকে ভয় পায়। তৃণমূল এই যুবলীগ নেতা মনে করেন, মানুষের সমর্থন চাইলে শেখ পরিবার, সন্ত্রাসী, লুটেরা, অর্থলুটপাট, পাচারকারী ও দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে জনপ্রিয় ও স্বচ্ছ দেশপ্রেমিকদের সামনে নিয়ে আসতে হবে
আওয়ামী লীগ কী সুযোগ পাচ্ছে?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী আওয়ামী লীগ সমর্থকরা এখন আর সমর্থক নেই। তারা প্রায় সবাই এক্টিভিস্ট। বিশেষ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলটির সমর্থকদের মধ্যে দু’টি গ্রুপ খুবই সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকায় রয়েছে। এই দুটি গ্রুপের মধ্যে একটি হচ্ছে প্রবাসী গ্রুপ এবং যারা গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর অন্যটি হচ্ছে দেশের অবস্থান করা আওয়ামী লীগ সমর্থনকারী সাংবাদিক, চলচ্চিত্র ও সামগ্রিকভাবে সাংস্কৃতির অঙ্গনের একটি অংশ।
যেমন দেশের বাইরে থেকেও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন আওয়ামী লীগের প্রায় সব সাবেক এমপিরা। তারা কর্মীদের চাঙা রাখতে নানা রকমের আশ^াস দিচ্ছেন। আবার সাবেক মৎস্য ও প্রাণী সম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমসহ কিছু সিনিয়র মাঝে মধ্যেই নানা ইস্যুতে সামাজিক মাধ্যমে সরব হওয়ার চেষ্টা করেন। ২৪ ও ২৫ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেল আওয়ামী লীগের পলাতক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই নোয়াখালীর বসুরহাট-এর সাবেক পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে নানা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এছাড়াও বিদেশে কর্মজীবী ও পলাতক নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিরিয়াস এক্টিভিস্টের ভূমিকায় রয়েছেন। এরা দিনরাত নানা গুজব ছড়িয়ে দেশে থাকা নেতাকর্মীদের চাঙা রাখার চেষ্টা করেন। এই কয়েকদিন আগেও ক্রসফায়ারের খলনায়ক খ্যাত সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদকে গ্রেফতারের খবর বের হওয়ার পর এই এক্টিভিস্টরা পরইদিনই গুজব ছড়িয়েছে যে তাকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। একজন টেলিভিশনের পরিচিত মুখ ও সিনিয়র সাংবাদিক তার নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলছেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে উঠতে পারে। দুবাই থেকে অন্য কোন খবর আসতে পারে।’ গত ১৫ জুন বেনজির আহমেদকে ইঙ্গিত করে তিনি ওই মন্তব্য করেন। এরপর তার এই পোস্টে ২৫ জুন পর্যন্ত লাইক পড়েছে ৫ দশমিক ৩ কে (ক) বা ৫ হাজার ৩০০টি। কমেন্ট বা মন্তব্য করেছেন সাতশ’ একজন এবং শেয়ার করেছেন ৬৪জন। অথচ ১৬ জুন যাদের ঘুম ভেঙেছে তারা দুবাই থেকে অন্য খবর পাননি, কারো মুখ ফ্যাকাশেও হয়নি। এভাবে গুজবের প্রতিযোগিতায় রয়েছে কয়েক শ্রেণীর দেশি-বিদেশি এক্টিভিস্ট। এসব গুজব যাচাই-বাছাই না করেই অতি উৎসাহী হয়ে অনেকেই রাস্তায় নেমে জনরোষে পড়ছেন আবার অনেকেই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যাচ্ছেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের মধ্যে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভিসহ বেশ কয়েকজন জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অনেকেই বলাবলি করছিলেন, সরকার আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছে। কেউ কেউ পুর্নবাসন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও সরকারের সমালোচনা করে আরও নানা কথা বলেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জন্য আপাতত ভালো কোনো খবর নেই। তার একটি বড় ইঙ্গিত জাতীয় সংসদে দিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়টি বহাল রেখেছে এবং এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করেছে। তাছাড়া গণঅভ্যুত্থানের সম্পৃক্ত রাজনৈতিক দলগুলো সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে একে অপরের বিরোধিতা করলেও আওয়ামী লীগ ঠেকানো ইস্যুতে তারা সবাই একমত। তাছাড়া এই ইস্যুতে তাদের একমত না হওয়া ছাড়া বিকল্পও নেই। সেকারণে সরকারের প্রশাসন ও বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো যৌথভাবেই আওয়ামী লীগকে মাঠে দাঁড়াতে দেবে না। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে তার কিছুটা নজিরও দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই ইস্যুকে মাথায় রেখে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত মাঠে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সোচ্চার ছিল। ফলে নানা গুজব ও আওয়াজ দিয়ে শো’ডাউন বা শক্তির জানান দিতে পারেনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা এই দলটি।
বিপরীতমুখী হাসিনা ও আ.লীগ সমর্থকরা
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়েছেন। একটি অংশ ঢাকাসহ বড় বড় শহরে এসে আত্মগোপনে রয়েছেন। আরেকটি সুবিধাবাদী অংশ বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপিসহ বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোতে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে মিশে গেছেন। আর তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা রয়েছেন নতুন কোনো সুযোগের অপেক্ষায়। আর তারাই চাচ্ছে আওয়ামী লীগ ফিরে আসুক নতুন রূপে, পরিশোধিত বা রিফাইন্ড রূপে। কিন্তু দলটির প্রধান শেখ হাসিনা সেটি চান না, তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির পদ ছাড়তে চান না। এরও কিছু কারণ রয়েছে। তিনি মনে করেন দলীয় প্রধানের পদ থাকলে আন্তর্জাতিক নানা সংগঠন বা সংস্থার কাছে তিনি পৌঁছাতে পারবেন। দলের সংকট তুলে ধরতে পারবেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও এক সময়ের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান হওয়ায় এখনও আন্তর্জাতিক মহলে তার গুরুত্ব রয়েছে, পদ ছাড়লে তিনি সেই গুরুত্ব হারাবেন। আর সেই শঙ্কা থেকেই তিনি পদটি ধরে রাখতে চাইছেন।
ঢাকার একটি প্রভাবশালী ট্যাবলয়েট পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে সায় নেই শেখ হাসিনার। তাই তিনি কাতার যাওয়াসহ সব প্রস্তাবই নাকচ করে দিচ্ছেন। ওই পত্রিকাটি জানতে পেরেছে পরিশোধিত আওয়ামী লীগ গড়তে দু’টি প্রস্তাব নিয়ে কাজ শুরু করেছিল ভারত সরকার। তাতে বলা হয়েছিল, হয় আপনি কাতার যান, না হয় নতুন আওয়ামী লীগ গড়তে মত দিন। হাসিনা দুই প্রস্তাবই উড়িয়ে দিয়েছেন ভিন্ন কৌশলে। বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ যাতে অংশ নিতে পারে সে লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তাব চালাচালি হয়েছিল। কিন্তু হাসিনা তার সিদ্ধান্তে অনড়। তিনি কোনো অবস্থাতেই ভারত ছাড়তে চান না। যেতে চান না কাতারে। তিনি মনে করেন, কাতার যাওয়ার মানে হচ্ছে- নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র এই ইঙ্গিতও দিচ্ছে যে, হাসিনাকে বলা হয়-তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন প্রায় অসম্ভব। গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনা সরকার যেসব গণহত্যা চালিয়েছে তা মানুষের মন থেকে এখনও মুছে যায়নি। মানুষ বিক্ষুব্ধ। প্রশাসনিক কোনো সমর্থনও নেই। বাংলাদেশের কোথাও দলের কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব নেই। সরকার বিদায় নিয়েছে, দলও বিদায় নিয়েছে। নেতারা হয় ভারতে কিংবা অন্যদেশে আশ্রয়রত। কর্মীদের বেশির ভাগই এখনো পলাতক। দল পুনর্গঠনের কোনো চেষ্টা-তদবিরও নেই। তাছাড়া এই অবস্থায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেই হাসিনার অবস্থান নড়বড়ে। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর ভারত তাদের আগ্রহ অনেকটাই হারিয়ে ফেলে। ঢাকা-দিল্লি সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক আলোচনায় হাসিনা প্রসঙ্গ আসেনি। কথা হয়নি আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন নিয়েও। এমনকি আলোচনায় উঠে আসেনি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে আনা অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হওয়া বিলটিও। ওয়াকিবহাল কূটনীতিকরা বলছেন, ভারতের এই মনোভাবে হাসিনা প্রচণ্ড হতাশ। কিন্তু করার যে কিছুই নেই! সাবের হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগ গড়ার চেষ্টা বিফলে যায়। হাসিনা এই উদ্যোগে মত দেননি, বরং ক্ষুব্ধ হয়েছেন ভীষণভাবে। এর ফলে সাবের হোসেন চৌধুরী অনেকটা নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপট থেকে বিদায় নেন। নির্বাচনের আগে এসব উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের মনোভাবে বেশ পরিবর্তন আসে। নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও শেষ পর্যন্ত পক্ষেই মত দেন শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা। জলদি বেশ কিছু পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায় তখন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানই এর প্রমাণ।
শীর্ষনিউজ