Image description

ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষাকালের রোগ নয়। বছরের বিভিন্ন সময়ই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। তবে বর্ষা মৌসুমে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু ডেঙ্গুর প্রকোপই বাড়েনি, বদলে গেছে এর লক্ষণ ও জটিলতার ধরনও। ফলে আগের মতো উপসর্গ দেখে রোগ শনাক্ত করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ছে।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফ হোসেন খান বলেন, আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে উচ্চ জ্বর, চোখে ব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা এবং ত্বকে লালচে র‍্যাশ দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এসব পরিচিত লক্ষণ স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।

বর্তমান সময়ে অনেকেই সামান্য জ্বর বা শরীর ম্যাজম্যাজ করার মতো উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে রোগী বুঝতেই পারেন না যে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। অথচ কয়েক দিনের মধ্যেই হঠাৎ করে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ডেঙ্গুতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হলো জ্বর কমে যাওয়ার পরের কয়েক দিন। সাধারণভাবে অনেকে জ্বর কমে গেলে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে মনে করেন। কিন্তু ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এই সময়টিই ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’। জ্বর কমার দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত রক্তচাপ কমে যাওয়া, প্লাটিলেট দ্রুত হ্রাস পাওয়া এবং রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই এ সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।

এ ছাড়া নতুন ধরনের ডেঙ্গুতে শুধু জ্বর নয়, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, পাতলা পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তিও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে লিভার, কিডনি ও মস্তিষ্কও আক্রান্ত হতে পারে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন বা সেরোটাইপ রয়েছে। আগে একবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তি পরবর্তীতে ভিন্ন সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে মারাত্মক জটিলতা, যেমন ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

বিশেষ করে অতিরিক্ত বমি, পেটের ডান পাশে তীব্র ব্যথা, জন্ডিসের লক্ষণ বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।


শীর্ষনিউজ/