বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ গত ১৬ বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়মের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এসব নথি চাওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, এ লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য চেয়েছে সংস্থাটি।
দুদকের একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক মো. মোমিনুল ইসলামকে টিম লিডার এবং উপপরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার ও উপসহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লাকে সদস্য করে তিন সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের সুবিধা দিতে নীতিমালা জারি, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন ব্যাংকে অনিয়ম ও জালিয়াতির সুযোগ সৃষ্টি করে গত ১৬ বছরে দেশের ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
অনুসন্ধানের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ছয় ধরনের তথ্য ও রেকর্ডপত্র চেয়েছে দুদক। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ এবং ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন (ডিওএস) ও ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (বিআরপিডি) থেকে সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট ও বড় ঋণ পুনঃতফসিল/পুনর্গঠনসংক্রান্ত জারি করা সব অনাপত্তিপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি।
এ ছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের নাম, ঠিকানা, দায়িত্বকালসহ বিস্তারিত তথ্য, ২০২০ সালের বিআরপিডি সার্কুলার-৮ অনুযায়ী শিল্প ও সেবা খাতে দেওয়া প্রণোদনা ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও প্রণোদনার পরিমাণও চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপকে কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা প্রদানের অনুমোদনপত্র ও এ-সংক্রান্ত নোটশিটের সত্যায়িত অনুলিপি, সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময়ে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংককে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদনসংক্রান্ত নথি এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর দোহার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি-সংক্রান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদনের কপিও দুদক চেয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন। সে কারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দ্রুত কমিশনে পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে।
শীর্ষনিউজ