জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। বুধবার (০১ জুলাই) দুপুরে মেলান্দহ পৌরসভা সংলগ্ন নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
সদ্য পদত্যাগকারী আওয়ামী লীগ নেতার নাম ফকির আবু বকর সিদ্দিক। তিনি মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদানের আগে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আজ থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকব না এবং জীবনের বাকি সময় কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের রাজনীতি করব না।
একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তিনি স্বেচ্ছায় মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং দলীয় সব কার্যক্রম থেকে নিজেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আজ (১ জুলাই) ২০২৬ থেকে আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের কেউ নই। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তবে বিভিন্ন কারণে বিষয়টি তখন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার অবস্থান গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে তিনি ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ১৯৮৭ সালে তিনি ছাত্রদলের আহ্বায়ক হন। পরবর্তীতে যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পরে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালে তিনি ৫নং নয়ানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। ওই পরিস্থিতিতে ২০১৯ সালে মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ফকির আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণেই আমি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জীবনের বাকি সময় আমি আর কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হব না।
এ বিষয়ে জানতে মেলান্দহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. জিন্নাহকে একাধিক ফোন দিলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।