Image description

রাজধানীর একটি আইন কলেজের ছাত্র ও পুরোহিতের পেশায় থাকা এক তরুণকে টাকার জন্য রাতভর আটকে নির্যাতন করার অভিযোগ এনেছেন তার স্বজন ও বন্ধুরা।

সুভাষ দেউরী নামের ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণকে মঙ্গলবার সকালে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তার বোন জয়া দেউরী বলছেন, সুভাষ ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজের ছাত্র। কয়েক মাস ধরে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরে সহকারী পুরোহিতের কাজ করছিলেন। ওই মন্দিরে প্রতিদিন পূজা অর্চনা করেন সুভাষ, মাস শেষে সেখান থেকে সম্মানী পান।

সুভাষের গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানা এলাকায়। তিনি ওয়ারীর নারিন্দা এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকেন।

সোমবার রাতভর তাকে আটকে রেখে কে বা কারা নির্যাতন চালিয়ে সব টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। এমনকি বন্ধু ও স্বজনদের কাছে ফোন করে টাকা পাঠাতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ করেন জয়া।

আহতের রুমমেট ও বন্ধু দুর্জয় সাহা বলেন, "আমি আর সুভাষ এক বাসাতেই থাকি। রাত সাড়ে ৯টায় বাসায় আসার পরে আমি সুভাষক দেখিনি। ভেবেছি ওর কোনো কাজে হয়তো বাইরে গেছে। আমি বিষয়টা সেভাবে অতটা গুরুত্ব দেইনি।

“পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে আমাকে ওর নাম্বার থেকে কল দিয়ে কিছু টাকা দিতে বলে কিন্তু আমার কাছে টাকা না থাকার কারণে আমি ওকে টাকা দিতে পারিনি।”

দুর্জয় বলছেন, এরপর রাতে বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের খেলা দেখে সারারাত ঘোরাঘুরি করে ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে বাসায় ফেরার পথে নারিন্দা রোডের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে তিনি সুভাষকে আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম ছিল। সঙ্গে মোবাইল বা মানিব্যাগ কিছুই পাওয়া যায়নি।

সেখান থেকে সুভাষকে উদ্ধার করে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান দুর্জয়।

তিনি বলেন, "সুভাষ আমাকে বলেছে, রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত তার ওপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে উলঙ্গ করে তার ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। ব্ল্যাকমে‌ইল করে ফ্যামিলির সবার কাছ থেকে টাকা চাইতে বলেছে। যদি টাকা না দেয় তবে তার সেই নগ্ন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে।"

জয়া বলেন, "রাত ১টার দিকে আমি আমার ভাইকে কল দিই। কিন্তু সেই কলটি আমার ভাই না ধরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ধরে আমাকে বলে ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে। পরে ফোন কেটে দেয়। কিন্তু আমার কাছে তো অত টাকা ছিল না।

“বিষয়টা ফ্যামিলির অন্যদের বলার পর আমি জানতে পারি, সবার কাছেই নাকি টাকা চাওয়া হয়েছে। এরপর আমার ভাইয়ের নম্বর থেকে রাত আড়াইটার দিকে কল আসে এবং আমার ভাই কাঁদো কাঁদো সুরে টাকা দিতে বলে। এও বলে যে টাকা না দিলে নাকি ওকে মেরে ফেলবে।”

এরপর আলাদা একটি ফোন নম্বর দেওয়া হয় এবং রাতেই টাকা জোগাড় করে ওই নাম্বারে ২৬ হাজার টাকা পাঠানো হয় বলে জয়ার ভাষ্য।

তিনি বলেন, “তারপরে আমার ভাইয়ের সাথে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। আমার ভাই এখন ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।"

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, সকল ৭টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় সুভাষকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।

ওয়ারী থানার ওসি মফিজুর রহমান বলেন, খবর শুনে তিনি লোক পাঠিয়েছেন। তবে এখনো বিস্তারিত জানতে পারেননি।