দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন মাদক। কেবল আইন প্রণয়ন করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং আইন কার্যকর করতে প্রয়োজন সৎ সাহস ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এসব কথা বলেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে মাদক চোরাচালান প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আগে সবাই ইয়াবা কারবারি ‘বদী’র কথা শুনত। এখন বদী নেই, কিন্তু সীমান্ত দিয়ে মাদক আসা বন্ধ হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এখন ওখানকার দায়িত্বটা কে নিয়েছে? বাড়ির আশপাশের লোক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তো চেনার কথা।
নিজ নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, তার এলাকায় একটি ১০ শয্যার হাসপাতাল থাকলেও সেটি কার্যত পরিত্যক্ত। সেখানে চিকিৎসক, রোগী বা দারোয়ান কেউ নেই; উল্টো হাসপাতালটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি সংসদ সদস্যদের জন্য ওয়াশিং মেশিনের দাবির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আমার ওয়াশিং মেশিনের দরকার নেই। সংসদ দিলেও আমি নেব না। সংসদ সদস্যদের চেয়ে দেশের সাধারণ মানুষের প্রয়োজন অনেক বেশি। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে বাজেটকে অর্থবহ করাই বড় বিষয়।
বক্তব্যে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বৈষম্যের প্রশ্নও তোলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো একক ধর্মের মানুষের জন্য স্বাধীন হয়নি; এটি সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের রাষ্ট্র। একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, একসময় একটি ইসলামিক ব্যাংকে একজন হিন্দু প্রার্থীর চাকরির সুপারিশ করা হলে তাকে জানানো হয়েছিল, অমুসলিম হওয়ায় চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়।
বিষয়টির ব্যাখ্যা দাবি করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে তা বৈষম্যমূলক। ব্যাংক তো কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসা নয়। ব্যাংকের নামে ইসলাম থাকলেই সেখানে অন্য ধর্মের মানুষ চাকরি করতে পারবে না, এটা কি বৈষম্য নয়?’ এ বিষয়ে সংসদে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা আহ্বান জানান তিনি।
বাজেট প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উল্লেখ করেন, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করা বিরোধী দলের কাজ নয়, বরং সরকারকে সঠিক পথ দেখানোই দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘এই বাজেটের মধ্যে দর্শন আছে, রাজনীতি আছে।’
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ অর্থে একটি ‘বাংলাদেশি জাতি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ধারণা দিয়েছিলেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা নিশ্চিত হবে। সব ধর্মই মানুষকে ন্যায়, সততা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয় উল্লেখ করে ধর্মীয় মূল্যবোধকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।